দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঋণ জালিয়াতির মামলায় অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
এর আগে দুপুর ২টার দিকে আবুল বারকাতকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় হাজির করা হয়। এরপর পৌনে ৩টার দিকে আদালতের এজলাসে তোলা হয় বারকাতকে।
শুনানিতে দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ আসামিকে ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এ সময় অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কাইয়ুম হোসেন নয়নসহ আরও কয়েকজন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের জোর দাবি জানান।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আউয়াল জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্টে (ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কোর্ট) হবে জানিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, ‘মামলাটি তদন্তাধীন। আসামির জামিনের জোর আপত্তি জানাচ্ছি। জামিন পেলে আসামি আত্মগোপন করতে পারেন এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন অথবা তদন্ত কাজতে প্রভাবিত করতে পারেন।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. নাসিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, জনতা ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে অ্যাননটেক্সের ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। এ মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক আবুল বারকাতকে আসামি করা হয়।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. আবুল বারকাত জনতা ব্যাংকে চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় অ্যাননটেক্সের নামে তৈরি পোশাক কোম্পানির ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।