আরাকান

ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি পাচ্ছে না রোহিঙ্গারা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫, ০৯:৩২ পিএম

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের আরাকান রাজ্যের রাজধানী সিত্তওয়ে শহরে একটি ঐতিহাসিক মসজিদ পরিষ্কার করে সেখানে নামাজ পড়ার অনুমতি চেয়ে সেনা শাসিত সরকারের কাছে আবেদন করেন স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতারা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আরাকান নিউজ এজেন্সি।

অুনরোধ খারিজ করে দেওয়ার পর ভবিষ্যতে মসজিদটি পুনরুদ্ধার ও খোলার বিষয়ে সেনা সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঐতিহাসিক এই মসজিদটি ১৮৫৯ সালে নির্মাণ করা হয। মসজিদটির নির্মাতা ছিলেন মোহাম্মদ বখশ এবং ইলাহী জান নামের দুই ভাই। মসজিদটি এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ইসলামিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।

১৭০ বছরের বেশি সময় ধরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে টিকে আছে মসজিদটি। তবে ২০১২ সালের দাঙ্গার পর থেকে মসজিদটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তখন থেকেই নামাজ আদায় নিষিদ্ধ।

আরাকান নিউজ এজেন্সির একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সিত্তওয়ের রোহিঙ্গারা প্রতিবছর মসজিদটি খোলার ও সংস্কারের জন্য আবেদন করে আসছে, কিন্তু প্রতিবারই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

২০১২ সালে প্রথম এই দাবি অস্বীকার করা হয়, পরে ২০১৫ সালে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির শাসনামলেও তা পুনরায় প্রত্যাখ্যাত হয়। এমনকি ২০২১ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর বর্তমান সামরিক সরকারও এই দাবিকে উপেক্ষা করে যাচ্ছে।

মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও অরক্ষিত থাকায় ভবনের গঠনমূলক ক্ষয় শুরু হয়েছে। ভবনের ভেতরে গাছপালা জন্মে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় স্থাপনাটিকে প্রায় ধ্বংসের মুখে। ফলে আরাকানের সবচেয়ে পুরোনো ইসলামি নিদর্শনগুলোর একটি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত