একদিকে মিচেল স্টার্কের শততম টেস্টে ৪০০ উইকেটের মাইলফলকের হাতছানি, অন্যদিকে ন্যাথান লায়নের স্পিন-শিল্পে গ্লেন ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইতিহাস। জ্যামাইকার সাবিনা পার্কে গোলাপী বলের আলো-ছায়ায় আজ শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার শেষ টেস্টটি তাই দুই কিংবদন্তির নামেই লেখা থাকবে।
সিডনি থেকে প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরে, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রথম দিন-রাতের টেস্টে যেন সবচেয়ে আলো ছড়াচ্ছেন স্টার্ক। রাতের আকাশে গোলাপি বল যেমন উজ্জ্বল, তেমনি এই সংস্করণেও স্টার্কের পরিসংখ্যান ঝকঝকে। এখন পর্যন্ত ১৮.১৪ গড়ে ৭৪ উইকেট—এই সংস্করণে তিনিই সেরা। আর মাত্র পাঁচ উইকেট পেলেই হয়ে যাবেন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম ৪০০ উইকেটধারী বোলার।
তবে শুধু স্টার্ক নয়, এই টেস্টের আগে আরও একটি রেকর্ডের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন ন্যাথান লায়ন। দুই উইকেট পেলেই ছাড়িয়ে যাবেন কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রাথকে (৫৬৩)। লায়নের সামনে এখন শুধু শেন ওয়ার্ন (৭০৮)।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে আরও এক সম্ভাব্য ইতিহাস—হ্যাজলউডের প্রয়োজন মাত্র ৮ উইকেট। সেটি পেলে তিনিও পৌঁছাবেন ৩০০ উইকেটে। তখন টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৩০০ উইকেটধারী চার বোলারের আক্রমণ গড়বে অস্ট্রেলিয়া—স্টার্ক, হ্যাজলউড, লায়ন ও প্যাট কামিন্স।
তবে শেষ মুহূর্তে সবকিছু বদলে দিতে পারে একটি সিদ্ধান্ত—স্পিনারবিহীন একাদশ! কামিন্স জানিয়েছেন, উইকেটের ঘাস আর ম্যাচের রাতভিত্তিক প্রকৃতি বিবেচনায় লায়নকে বাইরে রাখার কথাও ভাবছেন তারা। গত ডিসেম্বরে ভারতের বিপক্ষে গোলাপি বলের টেস্টে লায়ন বোলিং করেছিলেন মাত্র এক ওভার।
অস্ট্রেলিয়া একাদশে সম্ভাব্য পরিবর্তন না হলেও উইন্ডিজ শিবিরে দোলাচল। অধিনায়কত্ব করছেন রস্টন চেজ, তিনিই জানিয়েছেন—ক্রেইগ ব্রাথওয়েটের জায়গা নিয়ে আলোচনা এখনও শেষ হয়নি। ফিরতে পারেন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান।
তবে দলগত হিসাব ছাপিয়ে এই ম্যাচের আকর্ষণ এখন দুটি নামেই কেন্দ্রীভূত—স্টার্ক ও লায়ন। একদিকে শততম টেস্ট, অন্যদিকে এক অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসেও যেভাবে বল হাতে বাজিমাত করে চলেছেন তাঁরা, তাতে স্পষ্ট—এই দুই তারকার গল্প এখনও বাকি অনেক। সাবিনা পার্কের আলো-আঁধারি বিকেলে ইতিহাস লেখা হয়ে যেতে পারে নিঃশব্দেই।
সমান ঘাসে ঢাকা উইকেট দেখে স্টার্ক বলেছেন—সিরিজের সবচেয়ে ভালো পিচ এটি। নতুন আলো ও গোলাপি ডিউক বল নিয়ে ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষায়। বৃষ্টির সম্ভাবনা কম হলেও কিছু ঝিরঝিরে বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে।
এতসব হিসাব আর সম্ভাবনার মাঝে অস্ট্রেলিয়া চাইবে তাদের অভিজ্ঞতা আর গতি নির্ভর বোলিং আক্রমণেই শেষ করতে সিরিজ। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য এই ম্যাচ হতে পারে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার বড় উপলক্ষ। তবে ইতিহাস বলছে—আজ রাতে স্টার্ক আর লায়নই হয়তো গল্পের আসল নায়ক হয়ে উঠবেন।
চেলসির সঙ্গে ফাইনালে 'আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী' পিএসজিকে দেখা যাবে
ছেলের ১৮তম জন্মদিন ঘিরে বাড়াবাড়িতে খুশি নন ইয়ামালের মা
‘১ রানের টেনশনে সারারাত ঘুমাতে পারিনি’