মুরাদনগরে ৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা মামলার তদন্তে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৫, ০৬:১৩ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগরের দুই সন্তানসহ নারীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।

রবিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার আমলি আদালত-১১ এর বিচারক মমিনুল হক এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নয়ন কুমার চক্রবর্তী। 

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- কড়ইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া (৫৫), রবিউল আওয়াল (৫৫), আতিকুর রহমান (৪২), মো. বায়েজ মাস্টার (৪৩), দুলাল (৪৫), আকাশ (২৪), মো. সবির আহমেদ (৪৮) ও মো. নাজিমউদ্দীন বাবুল (৫৬)।

এ বিষয়ে এসআই নয়ন কুমার চক্রবর্তী বলেন, গত ৭ জুলাই আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ৯ জুলাই তাদের প্রত্যেকের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরদিন ১০ জুলাই তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ বলেন, তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তে এসব তথ্য বড় সহায়ক হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

মামলার বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে একাধিক দল কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ৩ জুলাই সকালে মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে একদল লোকের হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন- ওই এলাকার খলিলুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা বেগম ওরফে রুবি (৫৩), ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) ও মেয়ে তাসপিয়া আক্তার ওরফে জোনাকি (২৯)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন রোকসানার আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (২৭)।

এ ঘটনায় পরদিন রাতে নিহত রোকসানার বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় স্থানীয় আকুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহকে। এ পর্যন্ত এ মামলায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত