মিয়ানমারে ভারতীয় হামলায় কমান্ডার নিহতের দাবি উলফার

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৫, ০৭:২১ পিএম

মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলে ভারতের আসামের একমাত্র সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা)-র দুই শীর্ষ কমান্ডার ভারতীয় বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। রবিবার এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

উলফা এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের জ্যেষ্ঠ নেতা, ‘লেফটেন্যান্ট জেনারেল’ নয়ন অসমের শেষকৃত্যের সময় হামলাটি চালানো হয়েছে। নয়ন নিজেও ভারতীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হন।

মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড (খাপলাং)–এর কয়েকটি ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা হয়েছে। উল্লেখ্য, উলফা (আই) ও এনএসসিএন (কে)–এর সদস্যরা প্রায়ই মিয়ানমারে একই ঘাঁটি ব্যবহার করে।

উলফা (আই) জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘ব্রিগেডিয়ার’ গণেশ অসম ও ‘কর্নেল’ প্রদীপ অসম নিহত হন। এ ছাড়া সংগঠনের আরও কয়েকজন সদস্য এবং কিছু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘দখলদাররা বিমানবাহিনী ব্যবহার করে ওই এলাকায় হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। আমরা আসামের স্বাধীনতাকামীদের জানাতে চাই, এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিশোধ আমরা অবশ্যই নেব।’

পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন উলফা (আই) ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘ঔপনিবেশিক শক্তি’ এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে ‘দখলদার বাহিনী’ হিসেবে বলে থাকে।

ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের এক হাজার ছয়শত তেতাল্লিশ কিলোমিটার এলাকায় মোতায়েন ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আসাম রাইফেলস জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারে কোনো ধরনের বোমাবর্ষণের তথ্য জানে না।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, তিনি উলফা (আই)-এর দেওয়া বিবৃতির বিষয়টি দেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘আসাম পুলিশ এই ঘটনায় কোনোভাবেই জড়িত নয়। আসামের মাটি থেকে কোনো হামলা চালানো হয়নি। এ ধরনের ঘটনার পর সাধারণত প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে বিবৃতি আসে, কিন্তু এখনো তারা কিছু জানায়নি।’

উল্লেখ্য, উলফা (আই) হলো আসামের একমাত্র সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন যারা এখনো পর্যন্ত ভারতের সরকারের সঙ্গে কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেনি। তারা ঘোষণা করেছে, যতদিন না দিল্লি ‘আসামের সার্বভৌমত্ব’ নিয়ে আলোচনায় রাজি হচ্ছে, ততদিন তারা কোনো শান্তি আলোচনা চালাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত