চার বছর ধরে বন্ধ পাইওনিয়ার লিগ

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

দেশের ফুটবলের অন্যতম প্রতিভা অন্বেষণের মঞ্চ পাইওনিয়ার ফুটবল লিগ। ফুটবলার তৈরির আঁতুড়ঘর বা সূতিকাগারও বলা হয় এই লিগকে। কিন্তু গত চার বছর ধরেই বন্ধ পাইওনিয়ার ফুটবল লিগ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা দ্রুত চালুর দাবিতে গত বছর আগস্টে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিলেন বিভিন্ন ক্লাব, ফুটবল একাডেমির কর্মকর্তা, কোচ ও খুদে ফুটবলাররা। কিন্তু তারপরও টনক নড়েনি বাফুফের কর্তাদের।

ক্লাব কর্মকর্তাদের অভিযোগ, গত বছর নতুন মৌসুমের খেলায় অংশ নিতে প্রায় ৮০টি দল নিবন্ধন ও এন্ট্রি ফি জমা দিলেও বাফুফের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে লিগ শুরু হয়নি। কমিটি গঠন ও অনুমোদনের জটিলতাকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। গাজী সেলিম ফুটবল একাডেমির কর্ণধার গাজী সেলিম বলেন, পাইওনিয়ার লিগ দ্রুত চালু না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতা না থাকায় হাজারো কিশোর ফুটবলার খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেকে ফুটবল ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ হতাশা ও নানা সামাজিক সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছে। লাইজু কিডস ফুটবল একাডেমির সহসভাপতি শাহাদাত হোসেনও দ্রুত লিগ শুরুর দাবি জানান। তার মতে, বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণে অনেক সম্ভাবনাময় ফুটবলারের স্বপ্ন অঙ্কুরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

বাফুফের নির্বাচন হয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবরে। কিন্তু গত দুই বছরেও পূর্ণতা পায়নি পাইওনিয়ার লিগ কমিটি। বাফুফের সদস্য হাজী টিপু সুলতানকে চেয়ারম্যান করে পাইওনিয়ার লিগের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা গত দুই বছরেও পূর্ণতা পায়নি। শুধু চেয়ারম্যান দিয়েই চলছে পাইওনিয়ার লিগ কমিটি। ফলে লিগ মাঠে গড়ানোর কোনো তৎপরতা নেই। একটি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৮০টি ক্লাব নাম নিবন্ধন করেছিল। পুরনো ক্লাব ৩ হাজার এবং নতুন ক্লাব ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল। কিন্তু লিগ হয়নি, টাকাও ফেরত পাননি ক্লাব কর্তারা। এ ছাড়া চার বছর ধরে পাইওনিয়ার লিগ বন্ধ থাকায় ক্লাব সংখ্যাও বাড়ছে। ৮০-এর জায়গায় এখন সেই সংখ্যা শতাধিক।

এ বিষয়ে নিজের দায় এড়াতে চাইলেন পাইওনিয়ার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হাজী টিপু সুলতান। তার কথা, ‘বাফুফেতে নাম জমা দিয়েছি একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য। কিন্তু আজও আমাকে সেই কমিটি করে দেওয়া হয়নি। তাই মাঠে খেলাও গড়াতে পারছি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত