বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সহকারি সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ বলেছেন, দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি দাবি করেন, সরকার নিরপেক্ষ থাকার কথা বললেও বর্তমানে একটি বিশেষ দলকে সহযোগিতা করছে।
আজ শুক্রবার রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তি সরকার জনগণের আন্দোলনের ফসল। অথচ আমরা দেখছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি রাজনৈতিক দলকে গঠনে ভূমিকা পালন করছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামের একটা দলকে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। জেলায় জেলায় ডিসি-এসপির পাহারায় সভা সমাবেশে করছে। শুধু তাই নয়, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দলকেও তারা পেট্রোনাইজ করছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। আপনার দ্রুত নির্বাচন দিয়ে সরে যান। সেটা অবস্যই নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে।
মিহির ঘোষ বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধকে তাদের মত করে নানা ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের যে মূল চেতনা গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ তারা ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী শক্তি ক্ষমতায় থাকার জন্য আপোষ করেছিল। আজকেও দেশে একই পরিস্থিতি। আজকে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জিত সংবিদান ছুড়ে ফেলার কথা বলা হচ্ছে। আজকে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য কে আক্রান্ত করা হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে ভাস্কর্য, আক্রান্ত হচ্ছে সংস্কৃতি।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। দিনের ভোট রাতে করেছে। উন্নয়নের নামে লুটপাট করেছে। দেশের টাকা বিদেশে পাঁচার করেছে। দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে মানুষ জর্জরিত ছিল। ব্যাংকগুলো লুট করা হয়েছে।মানুষের মানবাধিকার হরণ করেছে। এসবের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান তৈরি করেছে। সে সময় আমাদের স্লোগান ছিল দুঃশাসন হঠাও ব্যবস্থা বদলাও। আমরা আশা করেছিলাম এই অপশাসন থেকে এবার দেশের দেশের মানুষ মুক্তি পাবে৷ কিন্তু দুঃশাসনও যায়নি, ব্যবস্থাও বদল হয়নি।
গোপালগঞ্জে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই নেতা বলেন, সেখানে যে হত্যাকন্ড হল সেসব লাশ পোস্টমর্টেম ছাড়া লাশ কবর দেয়া হয়েছে। এসব কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ভয়ংকর রুপে আরেক ফ্যাসিস্ট দেখছি। এ অবস্থা দেখার জন্য দেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করে নাই।
যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগ বানিজ্য করেছে। মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমরা রাজপথে ছিলাম। শতশত মানুষ জীবন দিয়েছে৷ হাজারো মানুষ পঙ্গু হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখলাম জুলাইয়ের এক বছর যেতে না যেতেই জুলাইয়ের চেতনার সাথে বেইমানী করা হয়েছে। সারা দেশে চাঁদাবাজি, লুটপাট, মাজারে হামলা, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই চলমান রয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড হচ্ছে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাইনি।
জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে বড় স্লোগান ছিল বৈষম্য রোদ করা। কিন্তু আমরা দেখলাম বড় বৈষম্য হয়েছে দেশের শ্রমীক, কৃষক, মেহনতী মানুষের সঙ্গে। যে রিকশা চারক রা জীবন দিলো জুলাই অভ্যুত্থানে তাদের ওপর চলম জুলুম হয়েছে, বৈষম্য হয়েছে গার্মেন্টস শ্রমীকের সঙ্গে, বৈষম্য হয়েছে এদেশের বেকার যুবকদের সঙ্গে। সরকারের এসবের দিকে কোন নজর নেই। তারা ব্যস্ত আমেরিকার সঙ্গে নানা চুক্তি করতে।
যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু বলেন, গত জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রুপ নিয়েছিল। তার ওপর ভিত্তি করে দেশে একটা অভ্যুত্থান হয়েছে। সেই অভ্যুত্থানের দেশের সকল রাজৈনতিক দল অংশগ্রহণ করে। দাবি ছিল একটাই বৈষম্য নিরষণ হবে। বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম পাঁচ আগস্টের পর গত এক বছরে ৬১ লাখ মানুষ কর্ম হারিয়েছে। ২০০ বেশি গার্মেন্টস বন্ধ হয়েছে৷ মব তৈরি করে এসব কারখানা লুটপাট করা হয়েছে। সরকার বিনোয়গ বাড়াতে ঢাকঢোল পিটিয় একটা সামিট করা হল। বলা হয়েছে দেশে কর্মসংস্থানের বন্যা বয়ে যাবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
তিনি বলেন, দেশের কোটি যুবক বেকার তাতে কিছু যায় আসে না। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধিতে জনজীবনের সংকট আরও তীব্রতর হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের বিপুল কর্মহীন যুবককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সহ-সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধকে তাদের মতো করে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের যে মূল চেতনা গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ— তারা ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। এবং তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী শক্তির সঙ্গে ক্ষমতায় থাকার জন্য আপস করেছিল। আজও দেশে একই পরিস্থিতি। আজ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলা হচ্ছে। আজ আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে আক্রান্ত করা হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে ভাস্কর্য, আক্রান্ত হচ্ছে সংস্কৃতি।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। দিনের ভোট রাতে করেছে। উন্নয়নের নামে লুটপাট করেছে। দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে মানুষ জর্জরিত। ব্যাংকগুলো লুট করা হয়েছে। মানুষের মানবাধিকার হরণ করা হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান তৈরি করেছে। সে সময় আমাদের স্লোগান ছিল, ‘দুঃশাসন হঠাও, ব্যবস্থা বদলাও।’ আমরা আশা করেছিলাম এই অপশাসন থেকে এবার দেশের মানুষ মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃশাসনও যায়নি, ব্যবস্থাও বদল হয়নি।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের আন্দোলনের ফসল। সে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, সে কি নিরপেক্ষ ভূমিকায় আছে? নাকি সেও দলীয় সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বলেন, আমরা দেখছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি রাজনৈতিক দলকে গঠন করছে। এনসিপি নামের একটা দলকে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। জেলায় জেলায় ডিসি-এসপিরা পাহারায় সভা-সমাবেশ করছে। শুধু তাই নয়, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দলকেও তারা পৃষ্ঠপোষকতা করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তিনি বলেন, আপনারা দ্রুত নির্বাচন দিয়ে সরে যান। সেটা অবশ্যই নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে।
গোপালগঞ্জে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই নেতা বলেন, সেখানে যে হত্যাকাণ্ড হল, সেসব লাশ পোস্টমর্টেম ছাড়া কবর দেওয়া হয়েছে। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ভয়ংকর রূপে আরেক ফ্যাসিস্ট দেখছি। এ অবস্থা দেখার জন্য দেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেনি।
যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগ ব্যবসা করেছে। মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমরা রাজপথে ছিলাম। শত শত মানুষ জীবন দিয়েছে। হাজারো মানুষ পঙ্গু হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখলাম জুলাইয়ের এক বছর যেতে না যেতেই জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বেইমানি করা হয়েছে। সারা দেশে চাঁদাবাজি, লুটপাট, মাজারে হামলা, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই চলমান রয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাইনি। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে বড় স্লোগান ছিল বৈষম্য রোধ করা। কিন্তু আমরা দেখলাম বড় বৈষম্য হয়েছে দেশের শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষের সঙ্গে। যে রিকশাচালকরা জীবন দিলো জুলাই অভ্যুত্থানে, তাদের ওপর চলেছে জুলুম। বৈষম্য হয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিকের সঙ্গে, বৈষম্য হয়েছে এদেশের বেকার যুবকদের সঙ্গে। সরকারের এসবের দিকে কোনো নজর নেই। তারা ব্যস্ত আমেরিকার সঙ্গে নানা চুক্তি করতে।
যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু বলেন, গত জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। তার ওপর ভিত্তি করে দেশে একটা অভ্যুত্থান হয়েছে। সেই অভ্যুত্থানে দেশের সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। দাবি ছিল একটাই— বৈষম্য নিরসন হবে, বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম পাঁচ আগস্টের পর গত এক বছরে ৬১ লাখ মানুষ কর্ম হারিয়েছে। ২০০-এর বেশি গার্মেন্টস বন্ধ হয়েছে। মব তৈরি করে এসব কারখানা লুটপাট করা হয়েছে। সরকার বিনিয়োগ বাড়াতে ঢাকঢোল পিটিয়ে একটা সামিট করেছে। বলা হয়েছে দেশে কর্মসংস্থানের বন্যা বয়ে যাবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
তিনি শেখ হাসিনা সরকারের মতো এই সরকারও আমেরিকার সঙ্গে গোপন চুক্তি করছে। সেসব চুক্তিতে বন্দর ইজারা দেওয়ার কথা ভাবছে। করিডোর দেওয়ার কথা ভাবছে। আমাদের দেশে অন্য দেশের সামরিক অস্ত্র কারখানা করতে চাইছে। আমরা সরকারের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছি। অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিল করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের কোটি যুবক বেকার, তাতে কিছু যায় আসে না। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধিতে জনজীবনের সংকট আরও তীব্রতর হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের বিপুল কর্মহীন যুবককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই।
যুব ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইরান মোল্লা, দক্ষিণের সহ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের আহ্বায়ক রফিজুল ইসলাম, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার প্রমুখ।
