‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫, ০১:০০ এএম

বাংলা কথাসাহিত্যের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ। তার জাদুর স্পর্শে সোনা ফলেছে কথাসাহিত্যের প্রতিটি শাখায়। উপন্যাস দিয়ে বাংলা কথাসাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ, একে একে লিখেছেন গল্প, নাটক, গান, চিত্রনাট্য। ছোটদের জন্যও লিখেছেন দুই হাতে। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ বড়দের জন্য যত লিখেছেন সেই তুলনায় ছোটদের জন্য কমই লিখেছেন। কিন্তু ছোটদের জন্য তার মোট লেখার পরিমাণ কম নয়। তিনি নিজেই বলেছেন, খুবই অবাক হয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করছি বাচ্চাদের জন্য এত লেখা কখন লিখলাম? নিজের এই আত্মোপলব্ধির কথা তিনি উল্লেখ করেছেন শিশুদের জন্য তার লেখাগুলোর একটি সংকলনের ভূমিকাতে। সংকলনটির নাম ‘ছোটদের যত লেখা’। এখানে উল্লেখ করা ভালো, এই সংকলনের বাইরেও তার বেশ কিছু লেখা আছে। বইটিতে যে বইগুলো এক মলাটের ভেতরে আনা হয়েছে তা হলো, তিনি ও সে, বোকাভূ, মজার ভূত, তোমাদের জন্য রূপকথা, নীল হাতী, পরীর মেয়ে মেঘবতী, চেরাগের দৈত্য এবং বাবলু।

 হুমায়ূন আহমেদের শিশুসাহিত্য বাংলা শিশুসাহিত্যের একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে। শিশুদের জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন এক নতুন ভুবন। শিশুসাহিত্যের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে ভূতের গল্প। হুমায়ূন আহমেদও ভূতের গল্প লিখেছেন কিন্তু সেই ভূত ভয়ের না। সেই ভূত রাতের অন্ধকারে ভয় দেখাতে আসে না। বরং বন্ধু হয়ে পাশে বসে। তাদেরও মন  খারাপ হয়। মানুষের মতো তারাও নানা বোকামি করে হাস্যকর অবস্থার অবতারণা করে। তিনি একটি ভূতের গল্প লিখেছেন যে খুব বোকা, নামটাও বোকাভূ। সাধারণ ভূতেরা যা করে সে সব কাজ সে পছন্দ করে না। সে পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকতে চায়, স্কুলে যেতে চায়। সে কাদা মাখতে চায় না, মানুষকে ভয় দেখাতে চায় না, মারামারি করতে চায় না। এসব কাজ করতে না চাওয়া ভূত সমাজের চোখে বড় অপরাধ। কিন্তু অপরাধ হলে কী হবে, তাকে সুস্থ করতে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হলো মানুষের স্কুলে। গল্পের শেষে হুমায়ূন আহমেদ পাঠকদের বলছেন, কে জানে সে হয়তো তোমাদের স্কুলেই পড়ে! এ কথা পড়ার পরে তোমরা কি তোমাদের সহপাঠীদের দিকে একবার চেয়ে দেখবে না, এ আসলে মানুষ নাকি ভূত? আরেকটি গল্প ‘তিনি ও সে’তে তিনি বলেছেন পরীর ছেলের গল্প। বৃষ্টি হচ্ছে বলে যাকে তার মা পার্কে রেখে গিয়েছে। বৃষ্টি থামলেই ডানা মেলে উড়ে যাবে। এ অবস্থায় পার্কে তার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় এক ব্যক্তির। তাকে যখন এই পরী সন্তান উড়ে দেখাল তখন তার মনের অবস্থা কী চিন্তা করো। তিনি যখন এই অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে বলেন তখন তো সবাই তাকে ‘পাগল’ মনে করবেই। তোমরা কি জানো, ভূতের বাচ্চা কী খায়? রুঁরুঁর গল্প-এ তিনি ফাঁস করে দিয়েছেন ভূতের বাচ্চা কী খায়। এই সব কয়টি গল্পই পাবে ছোটদের যত লেখা সংকলনে। আজ এই গুণী শিশুসাহিত্যিকের প্রয়াণ দিবস। তিনি শিশুদের ভালোবাসতেন। শিশুদের জন্য তার প্রথম বইয়ের নামও রেখেছিলেন ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’। তোমাদের জন্য ভালোবাসার যে অফুরন্ত ভা-ার রেখে গিয়েছেন তা উল্টেপাল্টে দেখার আহ্বান জানাই তার প্রয়াণ দিবসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত