‘স্ট্রিট চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যাওয়ারনেস উইক’ উপলক্ষে গ্লোবাল স্ট্রিট কানেক্ট (জিএসসি)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সংলাপ— ‘রাস্তার শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করি’। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ১৮–২৪ জুলাই ব্যাপী এ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তা, সমাজকর্মী, শিশু অধিকারকর্মী, গবেষক ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে উপস্থাপিত হয় একটি তাৎপর্যপূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে গ্লোবাল স্ট্রিট কানেক্ট এবং সহযোগিতা করেছে ওপেন ইউনিভার্সিটি (যুক্তরাজ্য) ও ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্ক (যুক্তরাষ্ট্র)।
গবেষণায় ৫৯২ জন রাস্তার শিশুর উপর পরিচালিত জরিপ এবং ৩২ জন শিশুর উপর করা গভীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য— শতভাগ শিশু কোনো না কোনোভাবে শারীরিক, মানসিক অথবা যৌন সহিংসতার শিকার, ৯৫% শিশু আর্থিক নির্যাতনের শিকার। এই সহিংসতার অভিজ্ঞতা শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে ফেলে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব।
শিশুদের সুরক্ষায় একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, পুনর্বাসন ও সেবা প্রদানে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ ও শিশুদের ক্ষমতায়নে কমিউনিটি-নির্ভর অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি চালুর মধ্য দিয়েই রাস্তার শিশুরা পাবে ন্যায্য অধিকার, সুরক্ষা ও মানবিক বিকাশের নিশ্চয়তা—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ হায়দার বলেন, ‘এই শিশুদের রক্ষা করতে হলে আমাদের অবিলম্বে নীতিমালার সংস্কার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শৈশবের ট্রমা শিশুদের মানসিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। আমাদের একটি ট্রমা-সংবেদনশীল এবং অধিকারভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে ‘
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জিএসসির ক্যাম্পেইন সমন্বয়কারী মো. আবদুস সামাদ। তিনি ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিনির্ধারণী রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন। সংলাপ শেষে অংশগ্রহণকারীরা তিনটি দাবিতে একমত হন।
