ছাত্রলীগের অনেকে এখন শিবিরের পদে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসিতে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ স্মরণ সভা’য় এসব কথা বলেন তিনি।
নাছির উদ্দিন বলেন, ‘ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুলিশে দিলে ছাত্রশিবির তাদের ছাড়িয়ে আনে। শিবির বলে, কৌশলের অংশ হিসেবে তারা ছাত্রলীগ করেছে এখন শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বে রয়েছে। এই চিত্র আমরা গাজীপুরে দেখেছি, চকবাজার দেখেছি, চট্টগ্রামে দেখেছি। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা দেখেছি ছাত্রলীগের ক্যাডার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সোহরাওয়ার্দী হল শাখা শিবিরের সভাপতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক মাস আগে শাহবাগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে একটি আন্দোলন হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে ছাত্রশিবিরও ছিল। তারা সেখানে বললো আমরা আন্দোলন করবো ভালো কথা কিন্তু কোনো জাতীয় সংগীত গাইতে পারবেন না। যারা জাতীয় সংগীত গাইতে বাধা দেয় সেরকম কোনো ছাত্র সংগঠনের সাথে কিভাবে ঐক্য হতে পারে আমি বুঝতে পারি না। তাই ছাত্রদল মনে করে যারা জাতীয় সংগীতের স্পিরিট ধারণ করে না, যারা জাতীয় সংগীত গাইতে আমার দেশের সাধারণ মানুষকে বাধাগ্রস্ত করে তাদের সাথে বাংলাদেশের কোনো ছাত্রসংগঠনের ঐক্য হতে পারে না।’
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. জহির রায়হান আহমেদ বলেন, ‘গতবছর চতুর্থ দিনের মতো কারফিউ ছিল এবং সারাদেশের ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। আজকের এই দিনে আমরা কেউই বাসা বাড়িতে থাকতে পারিনি। আমাদের প্রত্যেকের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থান কিন্তু একদিনে রচনা হয়নি। দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় দীর্ঘ শ্রম-ঘামের বিনিময়ে এই জুলাই এসেছে।’
সভাপতির বক্তব্যে আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের স্মরণ সভায় দুঃখের সাথে বলতে হয় আমরা ৫ আগস্টের পর যে প্রত্যাশা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম বাংলাদেশে ইসলামি ছাত্রশিবির এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সুন্দর রাজনীতি যেভাবে নষ্ট করেছে তা বিগত সময়ে কখনো হয়নি। আজকে যখনই দেখবেন বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজমান, দেশের মানুষের অশান্তি তখনই দেখবেন দরজার পেছনের যে চেহারাটা তারই নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দরা জড়িত।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও ঢাকায় বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে দোয়া করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কগণ বক্তব্য দেন।
সভাটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরদার রাশেদ আলী। সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, ইউট্যাবসহ বিএনপিপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষক ও রাজশাহী শহরের বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
সচিবালয় অভিমুখে কফিন মার্চ করবে ইনকিলাব মঞ্চ