বৈরি আবহাওয়ায় সেন্টমার্টিনে আটকা ২০ রোহিঙ্গাবোঝাই ট্রলার

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৫, ০৯:৫২ পিএম

সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় মিয়ানমারের ২০ রোহিঙ্গা ভর্তি একটি ট্রলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের সমুদ্রসৈকতের তীরে আশ্রয় নিয়েছে। ট্রলারটিতে ১৬ জন পুরুষ, তিনজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। আবহাওয়ার অবস্থা ভালো হলে তাদেরকে পুনরায় মিয়ানমারের ফেরত পাঠানো হবে। 

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ট্রলারটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর সৈকতের তীরে ভিড়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন।  

ইউএনও বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি সকালে জেনেছি। সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসককে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে যতটুকু জেনেছি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিয়ে কাজ করছেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, আজ শুক্রবার দুপুরের দিকে রোহিঙ্গাবোঝাই একটি ট্রলার সেন্টমাটিন দ্বীপের উত্তর সৈকতের তীরে ভিড়েছে। ওই ট্রলারে একটি পরিবারের একজন শিশু, একজন পুরুষ ও তিনজন নারীসহ পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। ওই ট্রলারে আরও ১৫ জন পুরুষ রয়েছেন। এরমধ্যে সাতজন ওই ট্রলারের মাঝিমাল্লা। 
সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় তার প্রাণ বাঁচাতে সেন্টমাটিন দ্বীপের আশ্রয় নিয়েছে। আবহাওয়ার অবস্থা ভালো হলে তাদেরকে পুনরায় মিয়ানমারের ফেরত পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। 

রোহিঙ্গাদের বরাতে চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের সরকারী বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আমির সংঘাতে কারণে সেখানকার অবস্থা ভালো নয়। তাই তারা পালিয়ে ভিন্ন দেশের চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এরমধ্যে মিয়ানমারের কারাগার থেকে বের হয়ে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা একটি ট্রলারে করে পালিয়ে যাবার চেষ্টাকালে সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় তারা বাধ্য হয়ে সেন্টমাটিনে উত্তর সৈকতের তীরে আশ্রয় নিয়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজন ট্রলারটি দেখতে পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করেন।

এরপর বিজিবির একটি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে একটি হোটেলে কক্ষে আশ্রয় দেওয়া হয়। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাত শুরু হয়। টানা ১১ মাস যুদ্ধের পর গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপসহ ৮০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সংঘাতে কারণে মিয়ানমার থেকে গত ১৮ মাসে বাংলাদেশে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক অনুপ্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রসঙ্গে জানার জন্য সেন্টমার্টিন বিজিবি ও কোস্টগার্ড স্টেশনের সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত