বগুড়ায় মোছা. কবিতা (১৪) নামের অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ১১ দিন পার হলেও তার সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা ছাত্রীটি অপহরণের শিকার হয়েছে।
গত ১৪ জুলাই বগুড়া শহরের নওদাপাড়া মমইন ইকো পার্ক থেকে কবিতা নিখোঁজ হয়। শুক্রবার বিকালে কবিতার পরিবার জানায়, ঘটনার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও কবিতার সন্ধান মেলেনি। এখন কবিতার জীবন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
অপহরণে শিকার শিক্ষার্থী কবিতা বগুড়া শহরের সুত্রাপুর গোহাইল রোড এলাকার মনোয়ার হাকিম কবিরের মেয়ে ও স্থানীয় সেন্ট্রাল হাইস্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। এঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন হলেন, বগুড়া সদরের হাজরাদিঘী এলাকার পিয়াস (২৫), শরিফুল ইসলাম (২০), সরণ হোসেন (২৮) এবং ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকার আছমা আক্তার (১৯)।
বগুড়া সদর থানা পুলিশ ও পরিবারের সুত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে বগুড়া শহরের এডওয়ার্ড পৌর পার্ক থেকে নিখোঁজ হয় ছাত্রীটি। পরদিন স্বজনেরা আবার পার্কে গিয়ে খোঁজ করলে আছমা আক্তার নামে এক নারীর সাথে কথা হয়। ওই নারী মেয়েটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন মমইন ইকোপার্কে। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি পার্কে ঘুরতে গিয়ে আছমার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল মেয়েটির। সেই সূত্রে আছমা তার বাড়িতেও গিয়েছিলেন। ১৪ জুলাই তিনি ছাত্রীটিকে ইকোপার্কে নিয়ে যান এবং সেখানেই কৌশলে কয়েকজন যুবকের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
ঘটনার পরদিন স্বজনেরা আছমার কথামতো ইকোপার্কেও খোঁজ নেয়। কিন্তু সন্ধান না পেয়ে মেয়েটির বাবা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশ প্রথমে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আছমা আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সদর থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আছমা আক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
নিখোঁজ ছাত্রীর বড় ভাই তন্ময় রাজ বলেন, আমরা নিজেরাও খোঁজে নেমেছি। এখনো দুজন পলাতক রয়েছে। তাদের ধরলেই হয়তো বোনের সন্ধান মিলবে। আমরা খুব শঙ্কিত আমার বোনকে নিয়ে। তাকে আমরা সুস্থ ও সুন্দর ভাবে ফেরত চাই।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, আমরা চেষ্টা থামাইনি। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি। মেয়েটিকে দ্রুত উদ্ধার করা হবে। পুলিশের একাধিক টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
