আমদানি কমায় হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ২০ কোটি

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ০১:৩৬ পিএম

সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতির কারণে বন্দর দিয়ে পণ্যের আমদানি কমায় রাজস্ব আহরণ কমেছে বলে দাবি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। তবে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিরাজমান কিছু জটিলতার কারণে শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি কমায় রাজস্ব কমেছে। এসব জটিলতা নিরসন করা হলে বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়বে দাবি বন্দরের আমদানিকারক ও সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীদের। 

হিলি স্থল শুল্কস্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয় ৭৪০ কোটি ৯ লাখ টাকা।

সেই হিসাব মোতাবেক গত বছরের জুলাই মাসে ৪৫ কোটি ৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, আগস্টে ৬০ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বিপরীতে আহরণ হয় ৫৮ কোটি ৩৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৫৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ৫৫ কোটি ৭ লাখ, অক্টোবরে ৬২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ৬১ কোটি ৮৯ লাখ, নভেম্বরে ৬৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ৪৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ডিসেম্বরে ৬৯ কোটি ২১ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ৫৩ কোটি ৫৬ লাখ।

এছাড়া চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে ৬৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ৪৯ কোটি ৩১ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৫১ কোটি ৬১ লাখ টাকার বিপরীতে আহরণ হয় ৭০ কোটি ২ লাখ, মার্চ মাসে ৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৯৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, এপ্রিল মাসে ৬৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৪৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, মে মাসে ৪৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা, জুন মাসে ৬২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৩৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে পুরো অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৭১৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।  

হিলি স্থলবন্দরের সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, আগে যেখানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১৫০ থেকে ২০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হতো। এখন সেখানে আমদানির পরিমাণ কমে কোনোদিন ১৫ ট্রাক আবার কোনোদিন ২০ ট্রাক পণ্য আমদানি হচ্ছে। আগে বন্দর দিয়ে পাথর, পেঁয়াজ, চাল, ডাল, খৈল, ভুষিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হতো। বর্তমানে সীমিত পরিমাণে ডাল খৈল, ভুষি, জিরা বিভিন্ন ধরনের বীজ আমদানি হচ্ছে। আমদানিকারকরা এই বন্দর ব্যবহার করে পণ্য আমদানি করতে চাইছে না। আমরা তো চেষ্টা করছি আমদানিকারকরা এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করুক। কিন্তু তারা নিরুৎসাহিত বোধ করছে অন্য বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে তারা ভালো মনে করছে। আর বন্দর দিয়ে আমদানি কমার কারণে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না, এটাই তো স্বাভাবিক।

হিলি স্থলবন্দরের সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট জাবেদ হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যেসকল পণ্য আমদানি হতো বর্তমানে ওই সকল পণ্য সোনা মসজিদ বা ভোমরা স্থলবন্দরে কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়ার জন্য ওই বন্দর দিয়ে আমদানি হচ্ছে। বিশেষ করে ওই বন্দর দিয়ে জিরা আমদানিতে ৩ থেকে ৪ টন পণ্য অবৈধ সুবিধা হিসেবে শুল্কমুক্ত পাচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য পণ্য আমদানিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে সেখানে। কিন্তু হিলি স্থলবন্দরে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শতভাগ শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। এতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে জিরাসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানি কমায় রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

হিলি কাস্টমস সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, রাজস্ব আহরণে ঘাটতির কারণ হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকালীন সময়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির যে পরিবেশ থাকার কথা ছিল সেটি স্বাভাবিক ছিল না। ফলে বন্দর দিয়ে ওই সময়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ কিছুটা কম ছিল। এছাড়া আরেকটি কারণ হচ্ছে আগে প্রচুর পাথর আমদানি হয়েছিল, কিন্তু ভারত-বাংলাদেশে বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে সেই পাথর আমদানি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব পণ্য এই বন্দর দিয়ে আসার কথা সেগুলো আসছে না, যার কারণে সরকারের যে রাজস্ব আহরণ সেটি কমেছে।   

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেসব পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক রয়েছে সেগুলো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হলে খালাসে অনেক বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। এ কারণে অনেক আমদানিকারক এই বন্দর ব্যবহার বাদ দিয়েছে। এখানে যেসব কাস্টমস কর্মকর্তা রয়েছেন তারা সহজ একটি পণ্যকে খালাস দিতে চায় না। বন্দরের রাজস্ব আহরণ কমার এটিও কিন্তু একটি বড় কারণ।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এমআর জামান বলেন, সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৪০ কোটি ৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৭১৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা কম রাজস্ব আহরণ হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলেও গতবছরের চেয়ে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে।

তিনি জানান, গত অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ হয়েছিল ৬৪২ কোটি টাকা। সেই তুলনায় এবার রাজস্ব আহরণে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমসের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হয়ে থাকে বলেও উল্লেখ করেন এ কাস্টমস কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত