স্টোকস ছাড়া এই ইংল্যান্ড দল অর্ধেক একাদশ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৫, ১১:৪৬ এএম

বেশ কয়েকবার চোখ বুজে ফেলতে হয়েছে, যখন ভারতের বিপক্ষে চতুর্থ টেস্টের শেষ দিনে বল হাতে দৌড়াতে শুরু করেছিলেন বেন স্টোকস। হাঁটু, গোড়ালি, কোমর—যেন শরীরের প্রতিটি অংশই কাতর। মনে হচ্ছিল, লরেল অ্যান্ড হার্ডির ভাঙাচোরা গাড়ির মতো যেকোনো সময় থেমে যেতে পারেন। তবুও স্টোকস থামেননি।

দলের সহ-অধিনায়ক অলি পোপ, বন্ধু ও সতীর্থ জো রুট, কিংবা প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম—সবারই চেষ্টা থাকে স্টোকসকে একটু ধরে রাখার। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাকে কেউই থামাতে পারে না, যদি না নিজে থামেন।

কারণটা সহজ—দলটি তার নিজের, দায়িত্ব তার কাঁধে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে দুই দলের সব বোলারের মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ। তবুও, আগনিউ মনে করিয়ে দেন, নিজেকে সামলানোই এখন তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কারণ স্টোকস না থাকলে, ইংল্যান্ডের টেস্ট সম্ভাবনা অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়—হোক সেটা ওভালে ভারত সিরিজের শেষ ম্যাচ, বা শীতের অ্যাশেজ সিরিজ।

স্টোকসের অসাধারণ বোলিং যেমন প্রশংসার দাবি রাখে, তেমনি তা ইংল্যান্ড বোলিং ইউনিটের দুর্বলতা-ও উন্মোচন করে দেয়। বিশেষ করে, পুরনো বলে স্টোকসের ছয় উইকেট, যেখানে বাকিরা (উকস, কার্স, আর্চার, টাং) মিলে নিয়েছেন মাত্র দুটি—এটা স্পষ্ট করে দেয়, এখনও স্টোকসই মূল ভরসা।

জোফরা আর্চার টেস্ট দলে ফিরে আশার আলো দেখালেও, ওল্ড ট্রাফোর্ডের শেষ দিনে তার পা ফাটে, গতি কমে আসে ৮৩ মাইল প্রতি ঘণ্টায়। আর তখনই বোঝা যায়—তিনি ‘এক্সপ্রেস বোলার’ নন, যেটা অনেকেই ভাবেন। মাঝে মাঝে ৯০ মাইল পার করতে পারেন, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে মার্ক উডের মতো নয়।

তবুও, আর্চারের প্রত্যাবর্তন স্বস্তির। দুটি টেস্ট খেলা, চোট থেকে ফেরা—এই ধারাবাহিকতা তাকে অ্যাশেজের জন্য প্রস্তুত করতে পারবে, যদি তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়।

আট বছর পর দলে ফিরে চোটে পড়া শোয়েব বশিরের বদলি হিসেবে খেলেছেন লিয়াম ডসন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৭ ওভারে মাত্র ৯৫ রান দিলেও উইকেট শূন্য থাকা তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তার বোলিং অ্যাকশন বেশ চেস্ট-অন, অর্থাৎ শরীর পাশে না রেখে সোজাসুজি থাকে, ফলে টার্ন কম হয়। বয়স ৩৫, তাই নতুন করে অ্যাকশন বদলানোর প্রশ্ন আসে না। তবে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যেখানে স্পিনারের ভূমিকা মূলত রান আটকে রাখা, সেখানে ডসনের নির্ভুলতা হতে পারে কার্যকর—ঠিক যেমন গ্রায়েম সোয়ান ছিলেন ২০১০-১১ অ্যাশেজ জয়ের সময়।

ওভালেই সুযোগ পাবেন আরও একবার, সেটা প্রাপ্যও।

চতুর্থ টেস্টসহ সব ম্যাচই গিয়েছে পুরো পাঁচ দিনে। তাই উকস, কার্স ও আর্চার—তিনজনই ক্লান্ত। তাই জশ টাং ও গাস অ্যাটকিনসন দলে ফিরবেন বলেই মনে হচ্ছে।

স্টোকস যদি পুরো ফিট না থাকেন, হয়তো শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবেন। আর যদি একদমই না খেলতে পারেন, তাহলে তিন পেসার ও ডসনকে নিয়েই নামতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে উইকেট একটু সবুজ হলে স্টোকসই সবচেয়ে খুশি হবেন। কিছুটা বাউন্স, পেস—তবেই তার বোলারদের কার্যকারিতা বাড়বে। তবে শরীর যদি না সাড়া দেয়, ইংল্যান্ড যেন ভেঙে পড়ে অর্ধেক।

কারণ এখনই মনে হচ্ছে—স্টোকস ছাড়া এই ইংল্যান্ড দল অর্ধেক একাদশই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত