প্রধান বিচারপতির বাসভবন নিয়ে ডকুমেন্টারি গেল জুলাই স্মৃতি যাদুঘরে 

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫, ০৬:৩৭ পিএম

প্রধান বিচারপতি সরকারি বাসভবনের ওপর নির্মিত ভিডিও ডকুমেন্টারি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি যাদুঘর’ এ পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তেজনাপূর্ণ আবহে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কিছু অংশে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুড় ও ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হয়। সেদিনের বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট দলিলবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এ নিয়ে একটি তথ্য নির্ভর ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রস্তুত করা হয়। ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে ঘটনার প্রামান্য উপস্থাপন নিশ্চিত করা, ইতিহাস সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভিডিও ডকুমেন্টারি জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে পাঠানো হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিকাশ ও রাজনৈতিক চেতনার ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে বিবেচিত। সেদিন ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণ দেশব্যাপী গণআন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। আন্দোলনের তীব্রতা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিচার ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত প্রধান বিচারপতির বাসভবনও তখনকার উত্তাল পরিস্থিতির বাইরে থাকেনি। এদিন ছাত্র সমাজ ও সাধারণ জনগণের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণে দেশব্যাপী যে গণআন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে তা নিছক একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং তা ছিল জনগণের গভীর প্রত্যাশা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবিকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত একটি ঐক্যবদ্ধ জনসঞ্চার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্দোলনের উত্তেজনাপূর্ণ আবহে বাসভবনের কিছু অংশে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুড় ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনের সেদিনের বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট দলিলবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে একটি তথ্য নির্ভর ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রস্তুত করা হয়। এ ডকুমেন্টারিটি কেবল একটি ঘটনার চিত্রায়ন নয়, বরং সময়ের প্রেক্ষিতে গণচেতনাকে ধারণকারী ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট বিশ্বাস করে, আন্দোলনের উত্তেজনাপূর্ণ আবহে প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনের কিছু অংশে যে অনাকাঙ্খিত ভাঙচুড় ও ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হয়েছে তাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে, সংশ্লিষ্ট সময়ের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট এবং জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা অধিক যুক্তিযুক্ত।

এতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এ ঘটনার প্রামাণ্য উপস্থাপন নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় স্মৃতি-ভান্ডারে তা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে উক্ত ভিডিও ডকুমেন্টারিটি সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ৩০ জুলাই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি যাদুঘর’- এ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আশা করে, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এই গুরুত্বপূর্ণ দলিলটিকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রদর্শণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যা ইতিহাস সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত