নীরব মহামারী ফ্যাটি লিভার

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৯:০৩ এএম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুসারে, বিশে^র প্রায় ২৫% মানুষ কোনো না কোনোভাবে ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্ত এবং এ হার উন্নয়নশীল দেশে দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে এই রোগ এক নীরব মহামারীর রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশেও এই প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ফ্যাটি লিভার হলো এক ধরনের হেপাটিক স্টিয়াটোসিস, যেখানে লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে থাকে। লিভারের মোট ওজনের ৫ শতাংশের বেশি চর্বি

থাকলে একে ফ্যাটি লিভার ধরা হয়।

এটি মূলত দুই প্রকার

          অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার : অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে সৃষ্ট।

          নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার: মদ্যপান না করলেও অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস বা অনিয়মিত জীবনযাপন থেকে সৃষ্ট।

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের আবার দুটি স্তরে ভাগ করা যায় :

          Simple Steatosis- যেখানে চর্বি জমে কিন্তু প্রদাহ হয় না

          Non-Alcoholic Steatohepatitis (NASH)– যেখানে প্রদাহ ও কোষের ক্ষয় শুরু হয়, যা ভবিষ্যতে লিভার সিরোসিস বা ক্যানসারের দিকে যেতে পারে।

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে মূল ঝুঁকিগুলো হলো :

          টাইপ ২ ডায়াবেটিস

          উচ্চ রক্তচাপ ও হাইপারলিপিডেমিয়া

          স্থূলতা (বিশেষ করে পেটের চর্বি)

          দীর্ঘদিন ধরে সেডেন্টারি জীবনধারা

          অনিয়মিত খাবার, উচ্চ ক্যালরি ও কম ফাইবারযুক্ত ডায়েট

          পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)

          মেটাবলিক সিন্ড্রোম

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের শুরুতে তেমন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। অনেক সময় রুটিন চেকআপে লিভার এনজাইম (SGPT, SGOT) বেড়ে যাওয়া থেকেই প্রথম শনাক্ত হয়।

লক্ষণ

          ওপরের ডান পেটের অংশে ভার বা ব্যথা

          দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি বা অবসাদ

          হজমে গোলমাল, গ্যাস বা

ফাঁপা ভাব

          অস্বাভাবিক ওজন ওঠানামা

বর্তমানে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের জন্য কোনো অনুমোদিত ওষুধ নেই। তবে নিয়মিত অনুশীলন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য রাখা সম্ভব।

জীবনধারাগত করণীয়

          প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম

          ওজন হ্রাস (মোট শরীরের ওজনের ৭-১০% কমানো হলে চর্বি অনেকটাই কমে যায়)

          লো-কার্ব, হাই-ফাইবার ডায়েট : বাদাম, সবুজ শাকসবজি,

মসুর, ওটস

          তেল-মসলা ও রেড মিট

এড়িয়ে চলা

          অ্যালকোহল সম্পূর্ণ বর্জন

          পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানো।

বাংলাদেশে প্রতি ৩ জনে ১ জন নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত, কিন্তু সচেতনতার অভাবে রোগটি ধরা পড়ে অনেক দেরিতে। নিয়মিত হেলথ চেকআপ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই একমাত্র পথ।

ফ্যাটি লিভার কোনো তুচ্ছ অসুখ নয়। সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে তা সিরোসিস, লিভার ফেইলিওর বা এমনকি হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমাতে রূপ নিতে পারে। তবে সুসংবাদ হলো, লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের মাধ্যমে এই বিপদ প্রতিরোধযোগ্য। তাই এখনই সতর্ক হোন, সচেতন থাকুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত