বিজয়নগরে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৩:১৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে বিজয়নগর উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বিজয়নগর উপজেলা সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে উপজেলার চান্দুরা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি আসনসহ দেশের মোট ৩৯টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রাথমিক গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সীমানা পুনর্বিন্যাসের আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন (সদর ও বিজয়নগর) উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ছিল।

নতুন গেজেটে বিজয়নগরের তিনটি ইউনিয়ন হরষপুর, চান্দুরা ও বুধন্তী ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। ওই ইউনিয়ন তিনটিকে আগের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মধ্যে রাখতে ইতিমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন বিজয়নগর উপজেলার চারজন স্থানীয় বাসিন্দা।

আজ সকালে বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় তারা একঘণ্টার মতো সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সবার দাবি অখণ্ড বিজয়নগর। পূর্বে আসনে বিজয়নগর ১০ইউনিয়ন একত্রে থাকতে চাই। নয়তো ১০ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বিজয়নগরকে আলাদা সংসদীয় নির্বাচনের আসন হিসেবে দাবি করেন তারা।

এসময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন শাহ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল আহমেদ, হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া, ডা. রফিকুল ইসলাম, রাষ্টু সরকার, সাবেক উপজেলা ভাই চেয়ারম্যান মুখলেছুর রহমান লিটন, ছাত্রদল নেতা এনামুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে প্রায় ৯৬ হাজার ভোটার আছেন, যা উপজেলার মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। দুই লক্ষাধিক ভোটারবিশিষ্ট উপজেলা একক সংসদীয় আসনের উপযুক্ত হলেও বছরের পর বছর ধরে এটিকে একবার সদর, একবার সরাইল, আবার কখনো নাসিরনগরের সঙ্গে যুক্ত করে অবহেলার শিকারে পরিণত করা হচ্ছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বিজয়নগরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এর পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। নতুন করে সরাইল আসনের সঙ্গে তিনটি ইউনিয়ন যুক্ত করায় মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।

তিনটি ইউনিয়নকে আগের আসনে রাখার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন বিজয়নগর উপজেলার স্থানীয় চার বাসিন্দা।

তারা হলেন- গোলাম মোস্তফা, এ কে এম গোলাম মুফতি ওসমানী, মো. জাহিদুজ্জামান চৌধুরী ও মো. বায়েজিদ মিয়া। এদিনই নির্বাচন কমিশনারের বরাবর আরেকটি আবেদন জমা দিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আতাউল্লাহ।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নকে দুই টুকরা করে তিনটি ইউনিয়নকে (বুধন্তী, হরষপুর ও চান্দুরা) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে এবং বাকি সাতটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে রেখে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ভাগ করা হয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত, হতাশাজনক ও বেআইনি।

উপজেলার সব ইউনিয়নকে এক ও অভিন্ন সংসদীয় আসনে রাখা হলে এলাকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা সহজ হবে। আবেদনে তিনটি ইউনিয়নকে বিচ্ছিন্ন না করে আগের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে রাখা বা একটি একক সংসদীয় আসনে পরিণত করার দাবি জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত