ইউটিউবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাবস্ক্রাইবের মালিক মিস্টার বিস্ট

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৪৬ পিএম

মিস্টার বিস্ট নামে পরিচিত ইউটিবের সুপারস্টার জিমি ডোনাল্ডসন নতুন ইতিহাস গড়লেন। তাঁর প্রধান চ্যানেল ৪০০ মিলিয়ন বা ৪০ কোটি সাবস্ক্রাইবার পার করায় বিশ্বের প্রথম একক ক্রিয়েটরের স্বীকৃতি পেলেন তিনি। এ উপলক্ষে ইউটিউব তাঁকে একটি বিশেষ ধরনের প্লে বাটন ট্রফি প্রদান করে, যা এই অবিস্মরণীয় কৃতিত্বের স্মারক।

২০২৫ সালের ১ জুন মিস্টার বিস্টের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৪০০ মিলিয়নে পৌঁছেছে। টি-সিরিজকে পেছনে ফেলে তিনি এখন বিশ্বের নম্বর ওয়ান ইউটিউবার। টি-সিরিজের বর্তমান সাবস্ক্রাইবার ৩০০ মিলিয়ন। ১ জুন জিমি লিখেছেন, ৪০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার! ১০ বছর আগে সবাই বলেছিল, আমি কখনো সফল হব না। তবু আমি কনটেন্ট বানিয়েছি। কেউ দেখেনি, তবু সাত বছর ধরে কাজ করে গেছি।

একই দিনে তিনি একটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইউটিউবের প্রধান নির্বাহী নিল মোহান জিমির হাতে 'টাইগার প্লে বাটন' তুলে দিচ্ছেন। পুরস্কারটি দেখতে অসাধারণ। চকচকে ধাতু দিয়ে তৈরি, মাঝে নীল রঙের একটি পাথর। এটি একদম আলাদা এবং চোখ ধাঁধানো।

জিমির সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৪০০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৪০ কোটি। এই সংখ্যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি!

প্রশ্ন হলো, তিনি কেন এত জনপ্রিয়? এর পেছনে অনেক কারণ আছে। প্রথমত, তাঁর ভিডিওগুলোতে থাকে অবিশ্বাস্য সব চ্যালেঞ্জ। যা কল্পনাকেও হার মানায়। যেমন, জনপ্রিয় সিরিজ 'স্কুইড গেম'-এর পুরো সেট বানিয়ে সাধারণ মানুষকে নিয়ে খেলার আয়োজন করেছিলেন তিনি। সেই ভিডিও এখন পর্যন্ত ৯০ কোটি বার দেখা হয়েছে। টানা ৫০ ঘণ্টা জীবন্ত কবরে শুয়ে ছিলেন। মিসরের পিরামিডের ভেতরে কাটিয়েছেন ১০০ ঘণ্টা। তাঁর ভিডিও মানেই বড় আয়োজন ও রোমাঞ্চ।

দ্বিতীয়ত, তিনি মানুষের স্বপ্ন পূরণ করেন। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি স্বপ্নপূরণের কারিগর। ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে গাড়ি, বাড়ি, এমনকি লাখ লাখ টাকা দান করেন। একবার এক সাবস্ক্রাইবারকে পুরস্কার দিয়েছিলেন একটি ব্যক্তিগত দ্বীপ! কিছুদিন আগে একজনকে দিয়েছেন একটি বিমান।

এখন ভাববেন না, টাকা থাকায় তিনি এমন করেন। প্রথম যখন ভিডিও থেকে ১০ হাজার ডলার আয় করেছিলেন, তখন কলেজ ছেড়ে দেওয়ায় মা তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। তিনি একটি ছোট বাসা ভাড়া নেন। সেই টাকা দিয়ে বড় বাসা নেওয়ার কথা ভাবলেও, পুরো টাকাই একটি পিৎজা ডেলিভারি ম্যানকে পুরস্কার দেন। সেটিও ভিডিও করে ইউটিউবে আপলোড করেছিলেন। এভাবেই তাঁর যাত্রা শুরু। আজও তা চলছে।

তাঁর স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়। তিনি বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য আরও বড় ও ভালো ভিডিও বানানো। আরও বেশি মানুষকে সাহায্য করা। হয়তো একদিন দেখা যাবে, মিস্টার বিস্ট বন্ধুদের নিয়ে চাঁদে ভিডিও বানাচ্ছেন!

মিস্টার বিস্টের জীবন থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। সেই স্বপ্ন পূরণে লেগে থাকতে হবে। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। নতুন কিছু করতে হবে। আর মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষকে ভালোবাসলে ও সাহায্য করলে সবাই আপনাকে ভালোবাসবে। সফলতা আসবেই।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত