চাকসুতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পদ রাখার দাবি

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫৭ পিএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (চাকসু) প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা কেউ নেতৃত্ব দিতে আসিনি। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার বুঝে নিতে এসেছি। এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখার কার্যকরী সদস্য মেহেদী হাসান, যিনি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী।

রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুর ৩টায় চাকসু ভবনের সামনে চাকসু নির্বাচন, ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের চবি শাখার কার্যকরী সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, এখন প্রশ্ন হতে পারে, আমরা কি তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। উত্তর হলো— না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তো আমাদের হাত ধরে রাস্তা পার করে দেয়, আমাদের প্রতি তাদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হিসেবে আমি তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো না। আমার মতো যারা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আছে, তাদের সঙ্গেই হবে আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসুতে পদ সৃষ্টি করা হলে তাদের অধিকার সুনিশ্চিত হবে বলে তিনি যোগ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট অনুরোধ আমাদের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসুতে যেন একটি বা দুটি পদ সৃষ্টি করা হয়। পদ সৃষ্টি হলে আমাদের অধিকার সুনিশ্চিত হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেমন চাকসুতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে, আমরাও আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। এটি আমাদের মৌলিক অধিকার। আমরা সবার সাথে তাল মিলিয়ে রাজনীতির মূলস্রোতে যেতে চাই। এতে আমাদের মেধার ও অস্তিত্বের বিকাশ ঘটবে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব রোমান রহমান বলেন, চাকসু গঠনতন্ত্রে পদসংখ্যা ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২৮টি করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ। কিন্তু সেখানে এমফিল-পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ভোটার ও প্রার্থিতার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, এমন প্রস্তাব ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের দাবি, সংশোধিত গঠনতন্ত্রে বয়সসীমা ৩০ থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ২৮ করতে হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসুতে একটি বা দুটি পদ সংযোজন করতে হবে।

এসময় চবি ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক তামজিদ উদ্দিন বলেন, গত ২২ মার্চ প্রশাসন বলেছে তারা চাকসু নিয়ে রোডম্যাপ দিবে। কিন্তু প্রশাসন এতে ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে তারা গত শুক্রবার প্রশাসন চাকসু গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেছে। ডাকসু, রাকসু ও জাকসু নিয়ে তফসিল ঘোষণা করেছে। অথচ চবিতে চাকসু নির্বাচনের কোনো খবর নেই। আমরা আর কোনো রোড ম্যাপ চাই না। আমরা চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা চাই। আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তফসিল ঘোষণা না হলে চবি ছাত্র অধিকার আমরণ অনশন করবো। অথবা আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করবো।

চাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, চাকসুতে ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে আমরা একক প্যানেল দেব। সে অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম চলছে।

প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, চাকসু না হওয়ার পেছনে প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যর্থতা দেখা গেছে। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করতে পারেনি। ঘটা করে অনলাইন ব্যাংকিং সেবা চালু করলেও কার্যত তা অচল হয়ে আছে। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের নামে প্রশাসন একটা ভেলকিবাজি করেছে। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোতে এখনও নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়। শাটল ট্রেনের সংস্কার করা হয়নি, বরং শিডিউল বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন অনলাইনে সনদ নেওয়ার কথা জানালেও আজ পর্যন্ত কেউ অনলাইনে সনদ উত্তোলন করতে পারেনি। তাছাড়া ক্যাম্পাসজুড়ে ই-কার চালুর নামে ভেলকিবাজি চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত