বিভিন্ন দেশের ওপর ‘পারস্পরিক শুল্ক (রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ)’ আরোপের মাধ্যমে শত শত বিলিয়ন ডলার রাজস্ব পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ দিয়ে জাতীয় ঋণ পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, শুল্ক আদায় কোনো চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নয়; বরং এটি ‘ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার’ একটি উপায়।
সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রথম মেয়াদে আমি চীনের উপর এই ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। তখন চীন আমাদের শত শত কোটি ডলার দিচ্ছিল। এরপর কোভিড এসে পড়ে, আর আমরা বাকিদের ওপর প্রয়োগ করতে পারিনি। তারপর বাইডেন সব কিছু নষ্ট করে দিয়েছিল।’
অনেক আগেই এই কাজটা করা উচিত ছিল উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা ঋণ পরিশোধ করব। আমাদের দেশে প্রচুর অর্থ আসছে— দেশের ইতিহাসে এত পরিমাণ অর্থ আগে কখনো আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুধু লাভের জন্য না, ন্যায্যতার জন্য ট্যারিফ চাই। যত জায়গায় পারি, সেখানে পারস্পরিক শুল্ক চাই। যদিও কখনো কখনো এটা তাদের পক্ষে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।’
হোয়াইট হাউসে ফেরার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই ট্রাম্প পুরনো বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামো ভেঙে ফেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে তিনি এমন দেশগুলোকে শাস্তি দিতে শুরু করেন যারা একতরফা বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি হয়নি এবং যারা রাজি হয়েছিল, তাদের কাছ থেকেও বড় ধরনের ছাড় আদায় করেন।
চলতি বছরের ২ এপ্রিল তিনি ঘোষণা দেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ এবং অন্য সব দেশের জন্য ১০ শতাংশ ‘বেসলাইন’ ট্যারিফ আরোপ করা হবে। এক্ষেত্রে তিনি ১৯৭৭ সালের একটি আইন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেন, যা তাকে এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়।
তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি ৯০ দিনের জন্য ট্যারিফ বাস্তবায়ন স্থগিত করেন, যাতে দেশগুলো আলোচনার সুযোগ পায়। অনেক দেশই শেষ পর্যন্ত মার্কিন দাবির কাছে নতি স্বীকার করে। যারা নতি স্বীকার করেনি, তাদের ওপর আরও কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সর্বশেষ ১ আগস্টের বাণিজ্য চুক্তির সময়সীমার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ৬৯ বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর ১০% থেকে ৪১% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেন।
ট্রাম্পের এই নতুন বাণিজ্যনীতিকে বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্র-কেন্দ্রিক একপাক্ষিক ব্যবস্থা বলে আখ্যা দিচ্ছেন, যেখানে বিশ্ব বাণিজ্যকে পুনর্গঠন করে মার্কিন ব্যবসায়ীদের লাভবান করাই মূল উদ্দেশ্য।
