খুলনায় তিন দিনের ব্যবধানে তিন খুন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২২ পিএম

খুলনায় তিন দিনের ব্যবধানে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া হত্যার উদ্দেশ্যে আরো একজনকে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। তবে এসব ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি নিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষ।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট সন্ধ্যা ৯টায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে খুন হয় সোনাডাঙ্গা থানাধীন সবুজবাগ এলাকার ঠিকাদার মনোয়ার হোসেন টগর (২৭)। দুর্বৃত্তরা সন্ধ্যায় টগরের বাড়ির দরজা নক করলে সে বাইরে আসে। টগরের সঙ্গে ৫ মিনিট কথোপকথনের একপর্যায়ে বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে তারা। এ ঘটনায় টগরের বাবা জামাল হাওলাদার ৭ জন আসামির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। 

এ ব্যাপারে সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, টগর পূর্ব খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর ‘বি’ কোম্পানির সদস্য ছিল। পরে সে পলাশ-কালা লাভলুর গ্রুপে যোগ দেয়। মাদক কারবারির টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া দুর্বৃত্তরা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না।

২রা আগস্ট ভোরে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামে খুন হয় ভ্যান চালক আলামিন সিকদার (৩৩)। এ প্রসঙ্গে থানার অফিসার ইনচার্জ এইচ এম শাহীন বলেন, স্ত্রী রিপা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী ছিল আলামিন সিকদার। প্রথম স্বামী আসাদুলে সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার কারণে আলামিন বিয়ে করে রিপা বেগমকে। এর জেরে ভোরে আলামিন সিকদার ঘর থেকে বের হলেই তাকে হত্যা করে আসাদুল। তবে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

৩রা আগস্ট রবিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর ২ নং কাষ্টমঘাট এলাকার একটি সেলুনের সামনে সোহেল (২৮) নামের এক যুবককে সন্ত্রাসীরা ৪টি মোটরসাইকেল যোগে এসে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। সে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

এ প্রসঙ্গে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আবু তারেক বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা দায়ের হয়নি। আমরা বিভিন্নস্থান থেকে তথ্য পাচ্ছি। সেগুলো যাচাই-বাচাই করে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে একই রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে চলন্ত অবস্থায় নগরীর মহেশ্বরপাশা উত্তর বণিকপাড়া এলাকার খানা বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্রদিয়ে গলা কেটে হত্যা করে ঘের ব্যবসায়ী আল আমিনকে (২৭)। ঘটনার ১২ ঘণ্টার বেশী সময় পার হলেও এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মীর আতাহার আলী বলেন, সোমবার সকালে নিহতের ভাই আওলাদ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।  

এদিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, গত বছর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ার পর অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী জেল থেকে বেরিয়ে গেছে। লুট হওয়া অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। তাদেরকে গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কেএমপি সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) খন্দকার হোসেন আহম্মদ বলেন, হত্যাকাণ্ডগুলো টার্গেট কিলিং। যা পুলিশের একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তবে খুনিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত