হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোনা পাচারের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন কেবিন ক্রুকে আটক করা হয়েছে। সোমবার বিকালে বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রুদাবা সুলতানা নামের ওই কেবিন ক্রুকে আটক করে। তার কাছ থেকে ২৩০ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়েছে। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিনিয়র কেবিন ক্রু।
কাস্টমস ও বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রিয়াদ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ ফ্লাইট শাহজালালে অবতরণ করে। নিয়ম মেনে ফ্লাইটটির ক্রুরা বের হওয়ার সময়ে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে কেবিন ক্রু রুদাবা সুলতানাকে চ্যালেঞ্জ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। তার ব্যাগেজ তল্লাশির পর বডি স্ক্যানিংয়ের জন্য স্ক্যানার কক্ষে নিতে চাইলে তিনি গড়িমসি করেন। একপর্যায়ে অন্তর্বাসে লুকিয়ে রাখা বিশেষভাবে তৈরি সোনার বার ছুড়ে ফেলে তা লুকানোর চেষ্টা করেন। পরে তা জব্দ করা হয়। এরপর তাকে স্ক্যানিং মেশিন দিয়ে দেহ তল্লাশি করে নতুন একটি আইফোন পাওয়া যায়।
বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার এসএম শরাফাত হোসেন বলেন, ওই কেবিন ক্রুকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি অবৈধভাবে আনা পণ্য থাকার কথা অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে নিজের কাছে বিশেষভাবে লুকানো স্বর্ণ ছুড়ে ফেলে তা পা দিয়ে লুকানোর চেষ্টা করেন। যদিও কাস্টমস সদস্যদের চোখ এড়ানো সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন ২৩০ গ্রাম। একজন কেবিন ক্রু বিনা ঘোষণায় তা বহন করতে পারেন না। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রুদাবা সুলতানাকে চ্যালেঞ্জ করার পর শুরুর দিকে উল্টো তিনি কাস্টমস সদস্যদের চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি নিজেকে বিমানের কেবিন ক্রু ইউনিয়নের শীর্ষ এক নেতার বোন পরিচয় দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
বিমানের ফ্লাইট পার্সার বিভাগের সূত্র জানায়, বিমানের ফ্লাইট পার্সার বিভাগে রুদাবা সুলতানা প্রভাবশালী কর্মী। তার ভাই কেবিন ক্রু ইউনিয়নের সভাপতি হওয়ায় বিগত সরকারের আমলে ভিআইপি ফ্লাইটে কেবিন ক্রুর দায়িত্বে থাকতেন তিনি। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সঙ্গে ছবি তুলে তা ব্যবহার করে বিমানবন্দরে নানা অনৈতিক সুবিধা নিতেন।
