রাশিয়ার তেল আমদানি

ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের পর স্যাংশনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৮ এএম

রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধে আরও ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ (দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা) দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প।

ভারত এই পদক্ষেপকে অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে এবং বলেছে, তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব কিছু করবে।

বুধবার (৬ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এখন মাত্র আট ঘণ্টা হয়েছে, দেখি এরপর কী হয়… আপনারা আরও অনেক কিছু দেখতে চলেছেন। অনেক সেকেন্ডারি স্যাংশনস দেখতে পাবেন।’

এই মন্তব্যের পেছনে ভারতীয় কর্মকর্তাদের একটি বক্তব্য ছিল, যেখানে তারা বলেছিলেন—চীনসহ আরও অনেক দেশই রাশিয়ান তেল আমদানি করছে, তাহলে শুধু ভারতকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে কেন? 

ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আসে ঠিক সেদিনই, যেদিন নির্বাহী আদেশে তিনি ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপের স্বাক্ষর করেন। এর ফলে ভারতের মোট শুল্কহার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে, যা ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। 

এই আদেশ অনুযায়ী, ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক বসানো হচ্ছে, যার ফলে ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি শুল্কহারপ্রাপ্ত দেশ হয়ে উঠল, যারা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে বলে শাস্তির সম্মুখীন হচ্ছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর নয়াদিল্লি থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে যা অন্য অনেক দেশও তাদের জাতীয় স্বার্থে নিচ্ছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই শুল্ক অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য, এবং ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।’

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন চীন ও তুরস্ক, যারা রাশিয়ান তেল আমদানি করছে, তাদের বিরুদ্ধে সমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তা হতে পারে। আমি এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। আমরা ভারতের ক্ষেত্রে করেছি, আরও কয়েকটির ক্ষেত্রেও করব—এর মধ্যে একটি হতে পারে চীন।’

বর্তমানে চীনের ওপর ৩০% এবং তুরস্কের ওপর ১৫% শুল্ক আরোপ আছে। ভারতের নতুন ৫০% শুল্ক হার কেবল ব্রাজিলের সঙ্গে মিলে, যেখানে মিয়ানমার (৪০%), বাংলাদেশ (৩৫%) ও ভিয়েতনাম (২০%) তুলনামূলকভাবে অনেক কম শুল্কের আওতায় রয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলে এই শুল্ক কি তুলে নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেটা পরে দেখব। আপাতত, তারা ৫০ শতাংশ শুল্ক দিচ্ছে।’

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ‘ভারত সরকার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে তেল আমদানি করছে। ফলে অতিরিক্ত অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’

অন্যদিকে ভারত বলেছে, তার তেল আমদানি সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং এর উদ্দেশ্য হলো ১.৪ বিলিয়ন মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত