ফুটবলঅঙ্গনে তিনি ‘সাইকোপ্যাথ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মেজাজের কারণেই অনেকে তাকে এই নামে ডাকতেন। প্রচণ্ড বদমেজাজ আর মাঠের খেলায় তার প্রয়োগ ঘটিয়ে বারংবার তিনি নামের ‘স্বার্থকতা’ প্রমাণ করেছেন। এরপর নাম লিখিয়েছেন সিনেমায়। রূপালী পর্দায় তিনি হয়ে উঠেছেন আজকের মারদাঙ্গা অভিনেতা ভিনসেন্ট জোন্স।
কিশোর বয়স থেকেই ফুটবল খেলার স্বপ্ন দেখতেন জোন্স। অনেক চড়া উৎরাই পেরিয়ে ১৯৮৬ সালে উইম্বলডন এফসির হয়ে ২১ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল শুরু করেন। দ্রুতই মেজাজী রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে তিনি পরিচিতি পেয়ে যান। লিভারপুলের বিপক্ষে এফএ কাপ ফাইনাল জয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন জোন্স। তবে জোন্সের দল নিয়মের কোনো ধার ধারত না। ম্যাচের আগের রাতে সবাই মিলে আকণ্ঠ মদ্যপান করতেন!
এসব অদ্ভুত কাণ্ডের জন্য জোন্সের নেতৃত্বাধীন দলটিকে তখন ‘ক্রেজিং গ্যাং’ নামে ডাকা হতো। তারপর থেকে তিনি আরও বেশি পরিচিতি পেতে শুরু করেন। মেজাজী ফুটবলের কারণে তৈরি হয় অনেক শত্রু। ১২টি লাল কার্ড দেখে তিনি হয়ে ওঠেন প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক বহিষ্কৃত খেলোয়াড়। ১৩টি লাল কার্ড দেখে তার আগে আছেন কেবল রয় কিন। ১৯৯৮ সালে, ৩৩ বছর বয়সে তার হলিউডে অভিষেক হয়।
ফুটবল মাঠে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার ব্যাপারে তার ব্যাপক দুর্নাম ছিল। একবার এরিক ক্যান্টোনার মতো বিখ্যাত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকাকে লাথি মেরে মাঠ থেকে ছিটকে দিয়েছিলেন! ব্রিটিশ ফুটবলের আরেকজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব পল গ্যাসকোইনের সাথে তার সংঘর্ষও অনেক কুখ্যাতি অর্জন করেছিল। এক ম্যাচে কথা কাটাকাটির মাঝেই তিনি গ্যাসকোইনের অন্ডকোষ ধরে টান দিয়েছিলেন, যে ঘটনার ছবি নিয়ে আজও আলোচনা হয়।
জোন্স যে বছর পেশাদার ফুটবলার হিসেবে তার শেষ মৌসুম শুরু করেছিলেন, সে বছরই তার অভিনীত প্রথম ছবি মুক্তি পায়। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া তার প্রথম সিনেমা ছিল ‘লক, স্টক অ্যান্ড টু স্মোকিং ব্যারেল’। এটি ছিল ক্রাইম এবং কমোডি ঘরানার সিনেমা। পরবর্তীতে জোন্স ৫০ টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য মুভিগুলো হলো- ‘গন ইন সিক্সটি সেকেন্ডস’, ‘মিন মেশিন’, ‘ইউরোভিশন সং কনটেস্ট’, ‘এক্স-মেন: দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’ ইত্যাদি।
শুধু মাঠের খেলাতেই নয়, বদমেজাজ জোন্সের ব্যক্তিগত জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি বেশ কয়েকবার হুমকি পেয়েছিলেন। এমনকি প্রতিবেশীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার জন্য তাকে ১০০ ঘন্টার কমিউনিটি সার্ভিস সম্পন্ন করতে হয়। ২০০৩ সালে, তিনি একজন বিমান ক্রুকে অপমান করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০০৮ সালে বারে মারামারি করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি আত্মজীবনীও প্রকাশ করেছিলেন।
সাড়ে ছয়শ শিকার ধরে শীর্ষে রশিদ; সেরা পাঁচে সাকিব
গ্যালারি থেকে মেসি দেখলেন সুয়ারেজের গোল উৎসব
২৩টি গোলাপে বরণ করা হলো মোহাম্মদ সিরাজকে