গাজার বেসামরিকদের ‘কৌশলগত নিধন’ ঠেকাতে ও জরুরি মানবিক সহায়তা দিতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-র জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
ওআইসি মহাসচিব হুসেইন ইব্রাহিম তাহা, ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হাকান ফিদান ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানকে পাঠানো এক চিঠিতে এই আহ্বান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
চিঠিতে আরাকচি লিখেছেন, গাজায় দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে মানবিক সংকট। এমনটি মোকাবিলায় ও ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ঠেকাতে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন। গাজার পরিস্থিতি মানবিক সহ্য সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এটি শুধু মানবিক সংকট নয়; বরং জোর করে ঘিরে রাখা বেসামরিক জনগণের কৌশলত নিধন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এমন পর্যায়ে গেছে যাকে গণহত্যা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।
তিনি আরও বলেন, সামরিক দখল, জনসংখ্যাগত প্রকৌশল এবং জোরপূর্বক স্থানচ্যুতির মাধ্যমে ইসরায়েল গাজার ভূখণ্ড ও রাজনৈতিক পরিচয় মুছে ফেলার সচেতন কৌশল অনুসরণ করছে।
আরাকচি বলেন, ‘দখলদার শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই গাজাকে রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে নির্মূল করার উদ্দেশ্য ঘোষণা করেছেন। এটি কৌশলগত কোনো পরিবর্তন নয়; বরং এটি হলো ফিলিস্তিনি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিহ্ন করার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।’
তিনি ওআইসিকে যত দ্রুত সম্ভব জেদ্দায় একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানান, যাতে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা যায় এবং আগ্রাসন বন্ধ করতে ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ কূটনৈতিক, আইনগত ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।
