কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে আমান উল্লাহ হৃদয় নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ীর ৩ লক্ষাধিক টাকার চাষের মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার বিকেলে উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের বুধড়া গ্রামে। এ ঘটনায় ‘স্বপ্ন এগ্রো’ এর মালিক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ হৃদয় চৌদ্দগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের বুধড়া গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ ব্যাংক ঋণ নিয়ে এবং নিজ অর্থায়নে বাড়ির পাশের একটি পুকুর লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করছেন। তিন-চার মাস আগে ব্যবসায়ী তিনি পুকুরে তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, কালি বাউশ, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন দেশীয় জাতের মাছ চাষ করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ চাষকৃত মাছগুলোকে দৈনিক হিসেবে পর্যাপ্ত পরিমাণের খাবার যত্ম সহকারে খাইয়ে বৃদ্ধি নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে রবিবার দিনের কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মাছ চাষকৃত পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। বিকালে স্থানীয়রা পুকুরের পানিতে মাছ ভাসতে দেখে ব্যবসায়ী আমান উল্লাহকে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পরে বড় জালের সহায়তায় ভাসমান মৃত মাছগুলো পাড়ে তোলেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ জানান, কয়েক বছর আগে স্থানীয় জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এবং নিজস্ব অর্থায়নে পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করি। পুকুরে বেশিরভাগ মাছই দেশীয় প্রজাতির ছিল। চার মাস আগেই নতুন করে মানসম্মত পোনা মাছ ফেলি। কিছুদিন পরেই মাছগুলো উপজেলার বিভিন্ন পাইকারী মৎস্য বাজারে সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু আমার সেই আশা মাটির সাথে মিশিয়ে দিল অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।
তিনি আরও জানান, এলাকার কারো সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। এ জীবনে আমি কারো ক্ষতি করেছি বলেও জানা নেই।। কেন তারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছগুলো মারল?
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, গুণবতীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের সংবাদটি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। ভুক্তভোগী কর্তৃক অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন সাত পুলিশ কর্মকর্তা