পুড়ে যাওয়া রোগীর ফিজিওথেরাপি ও সামাজিক পুনর্বাসন

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪০ এএম

অসাবধানতাবশত এবং দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ আগুনে পুড়ে যায়। এসব পুড়ে যাওয়া রোগীর জন্য ধাপে ধাপে (Step-by-Step) ফিজিওথেরাপি পুনর্বাসন রুটিন প্রয়োজন হয়। একজন রোগীর পোড়ার ধরন (গভীরতা ও বিস্তৃতি) ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে, তবে এটি একটি সাধারণ গাইডলাইন।

ধাপ ১ : তীব্র পর্যায়

প্রথম থেকে ৭ দিন

লক্ষ্য: ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, জয়েন্টের চলন বজায় রাখা, ফুসকুড়ি বা সংক্রমণ প্রতিরোধ

ফিজিওথেরাপি কার্যক্রম :

প্যাসিভ রেঞ্জ অব মোশন ব্যায়াম (PROM) প্রতিদিন ৩-৪ বার

পজিশনিং (contracture প্রতিরোধে হাত-পা সোজা করে রাখা, সাপোর্ট ব্যবহার)

দীপ্ত আলো বা হালকা তাপ প্রয়োগ (যদি চিকিৎসক অনুমোদন দেন)

TENS  (ব্যথা কমাতে)

বেডমোবিলিটি প্রশিক্ষণ (বিছানায় নিজে নড়াচড়া শেখানো)।

ধাপ ২ : সাব-অ্যাকিউট পর্যায়

১ম সপ্তাহ থেকে ৩য় সপ্তাহ

লক্ষ্য : শক্তি বৃদ্ধি, পেশি সচল রাখা, স্কার ম্যানেজমেন্ট শুরু

ফিজিওথেরাপি কার্যক্রম

অ্যাকটিভ অ্যাসিস্টেড মোশন (AAROM) ব্যায়াম

স্কার ম্যাসাজ (ডাক্তারের

পরামর্শে)

সিলিকন শিট বা কম্প্রেশন গার্মেন্টস প্রয়োগ শেখানো

ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ (বুকে পোড়া থাকলে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ)

বসা, দাঁড়ানো ও হাঁটার ট্রেনিং শুরু (যদি সম্ভব হয়)

ব্যালান্স ট্রেনিং ও হালকা স্ট্রেন্থেনিং এক্সারসাইজ

ধাপ ৩ : রিকভারি পর্যায়

৩য় সপ্তাহ থেকে ষষ্ঠ সপ্তাহ

লক্ষ্য : স্বাভাবিক চলনফেরায় ফিরে যাওয়া, পেশি শক্তিশালী করা।

ফিজিওথেরাপি কার্যক্রম :

ফুল রেঞ্জ অ্যাকটিভ এক্সারসাইজ

থেরাব্যান্ড দিয়ে স্ট্রেন্থ ট্রেনিং

ওয়েট বিয়ারিং ও গেট ট্রেনিং

ফাইন মোটর স্কিল (হাতের কাজ) প্রশিক্ষণ

কার্যকর ব্যায়াম (ADLট্রেনিং যেমন : দাঁড়িয়ে কাপড় পরা, বসে খাওয়া)।

ধাপ ৪ : লেট স্টেজ/ফলোআপ পর্যায়

৬ সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস

লক্ষ্য : পুনরায় সম্পূর্ণ কার্যক্ষমতা, চাকরি বা দৈনন্দিন জীবনে ফেরা।

ফিজিওথেরাপি কার্যক্রম :

হাই ইন্টেনসিটি এক্সারসাইজ

ওয়ার্ক হার্ডেনিং প্রোগ্রাম (যদি রোগী ম্যানুয়াল কাজ করেন)

স্কার টিস্যুর নমনীয়তা ধরে রাখা

দীর্ঘমেয়াদি পেইন ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

মনোবল বাড়াতে গ্রুপ এক্সারসাইজ বা রিক্রিয়েশনাল থেরাপি।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

প্রতিটি ব্যায়াম ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত। ব্যথা বাড়লে ব্যায়াম বন্ধ করে ফিজিওথেরাপিস্টকে জানাতে হবে। স্কার টিস্যু যতদিন নরম না হয়, ততদিন নিয়মিত স্কার ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন। পুষ্টিকর খাবার ও পানি খাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এটা রিকভারিতে সাহায্য করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত