ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তিন মাস মেয়াদী আহ্বায়ক কমিটির বয়স এখন চার বছর দুই মাস। মাঝে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। সম্প্রতি বিভিন্ন শাখায় নতুন কমিটি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরই ধারাবাহিকতায় দ্রুতই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও নতুন কমিটি হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, নতুন কমিটি নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা এখন তুঙ্গে। কমিটিতে আসতে পদপ্রত্যাশীরা বিভিন্ন মাধ্যমে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ পদপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা। ইতিবাচক ও সামাজিক কাজের মাধ্যমেও নিজেকে তুলে ধরতে চাচ্ছেন অনেকে। তবে দলের দুর্দিনে যারা ভূমিকা রেখেছেন এবং জুলাই আন্দোলন সফল করেছেন তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মী ও কেন্দ্রের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, দুই ডজন পদপ্রত্যাশী কমিটিতে আসতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরমধ্যে কেন্দ্রের হাতে ইতোমধ্যে একটি তালিকাও রয়েছে। আলোচনায় থাকা অন্তত ১১ জনের নাম জানা গেছে৷ এর মধ্যে বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন। পদপ্রত্যাশী অনেকে নিয়মিত ছাত্র নন বলে জানা গেছে। তবে কর্মীদের সাথে কথা হলে তারা নিয়মিত অনার্স-মাস্টার্সে অধ্যয়নরতদের শীর্ষপদে দেখতে চান বলে অভিমত প্রকাশ করেন। এদিকে শিক্ষাজীবনের শেষ প্রান্তে থাকা নেতাকর্মীরা নিয়মিত শিক্ষার্থী ও ক্লিন ইমেজ দেখে পদ দেওয়ার দাবি জানান।
আলোচনায় থাকা পদপ্রত্যাশীরা হলেন- শাখা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক লোক প্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রুমী মিথুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের আনোয়ার পারভেজ, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ বর্ষের রুকন উদ্দিন। এছাড়াও সদস্য ও কর্মীদের মধ্যে লভিং করছেন, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের রাফিজ আহমেদ, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রাকিব হাসান সাক্ষর, ফলিত রসায়ন বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের নূর উদ্দিন, রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের আবু সাইদ রনি, আল ফিকহ অ্যান্ড ল' বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের আব্দুল্লাহ আল মামুন, মার্কেটিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তরিকুল ইসলাম সৌরভ, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৪-১৫ বর্ষের রোকনুজ্জামান প্রমুখ। এর বাইরেও কেউ কেউ বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ জুনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। এতে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ বর্ষের শিক্ষার্থী সাহেদ আহম্মেদকে আহ্বায়ক ও ২০১১-১২ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রুমী মিথুনকে সদস্যসচিব করে ৩১ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেন তৎকালীন ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১৪ অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ৩ মাস হলেও চার বছর পার হয়েছে কমিটির।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটির অধিকাংশ সদস্যই এখন নিষ্ক্রিয়, বিবাহিত ও চাকরিজীবী। দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় এসব নেতারা দলীয় কোনো কার্যক্রমে নেই। এ নিয়ে সংগঠনের একাংশের মধ্যে তৈরি হয় অসন্তোষ। ইবি ছাত্রদলকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে নতুন কমিটির দিকে তাকিয়ে আছেন নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে ইবির দায়িত্বে থাকা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জহির রায়হান আহমেদ বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমরা কমিটি দিচ্ছি। সম্প্রতি রাবিতে কমিটি দিয়েছি। দুয়েকদিনের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি দেওয়া হবে। ইবির কমিটিও দ্রুতই দিয়ে দেব। এ নিয়ে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। পদপ্রত্যাশী ২০-২৫ জনের নামের তালিকা হাতে পেয়েছি। তবে নির্দিষ্ট করে কাকে কোন পদ দেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে যারা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদের অধিক মূল্যায়ন করেই আমরা কমিটি দেওয়ার চেষ্টা করব।’
