গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট এখনো বাংলাদেশে তাদের পেশি শক্তি দেখায়। পুলিশ ভূমিকা পালন করতে পারে না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা দিতে পারছে না।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ৫টায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার গোলাম মোস্তফা (জিএম) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সভাকক্ষে আয়োজিত গণসংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, “জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও শহীদদের ঋণ পরিশোধ করতে হলে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন একসাথে এগিয়ে নিতে হবে। সেজন্য তরুণদের সচেতন থাকতে হবে, এই তিন কর্মসূচি যেন কোন শক্তি বাঁধা সৃষ্টি করতে না পারে।”
তিনি বলেন, “আজ আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন তরণ শিক্ষার্থীরা। এটা আমাদের আনন্দের বিষয়। আমাদের তরুণরা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠছেন। আমরা ২৪ গণঅভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকা দেখেছি। তরুণ শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশে বারবার তাদের ভূমিকায় এগিয়ে। বৃটিশ ঔপনিবেশিক আন্দোলনে, ভাষা আন্দোলনে, ষাটের দশকে শিক্ষা আন্দোলনে, ৬৯ এর আন্দোলনে, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে, ৮০ দশকসহ ৯০ এর গণ আন্দোলনে বিশেষ করে ২৪ এর গণ অভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে তরুণরা নিজেদের রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তার তুলনা করা কঠিন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ৫৪ বছর ধরে সাম্য মানবিক মর্যদা প্রতিষ্ঠার বুলি শুনেছি, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। মানবিক মর্যাদা আজও প্রতিষ্ঠ হয়নি। অথচ মানুষের মানবিক মর্যাদা দিবে রাষ্ট্র। আমাদের ছাত্ররা বলেছিল কোটা নিয়ে বৈষম্য করা হচ্ছে। আমরা এই বৈষম্য মানিনা। সবার সামনে পুলিশ দিয়ে গুলি করে আবু সাইদকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তা না বিগত ১৫ বছরে ধরে দিনের পর দিন নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি সরকার পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে গুম, খুন, ত্রাস, ভয় সৃষ্টি করে, হত্যা করে গদি টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল।”
সাকি আরও বলেন, “আমরা সেদিন সবাই রাজ পথে ছিলাম কিন্তু সেদিন যে তরুণ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান আমাদের সবাইকে সাহসী করে তুলেছিল। গুলি কিংবা হত্যা কোনটাই ছাত্র-জনতাকে দমাতে পারেনি। তাই ওই জগদ্দল পাথর যিনি প্রায় ৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা নিশ্চিত করে বসেছিলেন এবং বলেছিলেন শেখ হাসিনা পালায় না। তাকে আপনারা ছাত্র-জনতা লড়াই করে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছেন। এই যে বিরাট অর্জন। সেই অর্জন, বা লড়াই কী আবার বেহাত হবে? আমাদের লড়াই কী বেহাত হবে? আমাদের লড়াই যদি আমরা বেহত হতে না দিতে চাই তাহলে আমাদের এই তরুণদের ভূমিকার আবারও প্রয়োজন আছে, থাকবেই।”
গণসংহতি আন্দোলনের নেতা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারকে শুরু থেকে বলে আসছিলাম যে, জনগণের শক্তির ওপর ভর করে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, তাই জনগণকে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। কিন্তু এই রাষ্ট্রের মধ্যে দোসররা এখনও টিকে আছে। তারা অন্তর্বর্তী সরকারকেও ঢিলেঢালা অবস্থা তৈরি করে দিয়েছে।”
সাকি আরও বলেন, “দেশে মব সন্ত্রাস চলে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জায়গা থাকছে না। মব সৃষ্টি করে ঘটানো ঘটনাবলিকে একে একে পুঁজি করতে করতে এখন খুনিরাও তাদের মাথা উঁচু করতে শুরু করেছে। তবে খুনিদের মাথা উঁচু করতে দেওয়া যাবে না।”
জোনায়েদ সাকি বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যেকটা খুনের বিচার হতে হবে। জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবার বারবার হত্যার বিচার চাইছে। কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না। এর দায় কে নেবে?”
সাকি আরও বলেন, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি জনগণ ঘরে ফিরে যায়, তবে আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
গণসংহতি আন্দোলন ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান বাবুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু’র সঞ্চলনায় বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন একসাথে চলতে হবে, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভূক্তিমূলক বাংলাদেশ, অধিকার ও মর্যাদার বাংলাদেশ, জনগণের বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত গণসংলাপ ও পদযাত্রা কর্মসূচিতে অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, দিনাজপুর জেলা কমিটির সংগঠক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল, দিনাজপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ শিশির, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সাকিরুল ইসলাম শাকি, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হৃদয় হাসান স্বাধীন প্রমুখ।
গণসংলাপ ও পদযাত্রায় কৃষক, শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, আদিবাসী নারী-পুরুষসহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। গণসংলাপ ও পদযাত্রা শেষে সন্ধ্যায় স্থানীয় নিমতলা মোড়ে পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
