রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সন্তানদের জন্য বিশেষ সুবিধা বা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ফেরানোর দাবিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘পোষ্য কোটা’। চলতি বছর বন্ধ থাকা এ সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে এক হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াত-বিএনপিপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
তারা বলছেন, এটি কোনো কোটা নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা, যা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বহাল থাকলেও রাজশাহীতে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই দাবিতে আগামীকাল পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা এসেছে তাদের পক্ষ থেকে।
গত রোববার শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেখানে জামায়াতপন্থী ও বিএনপিপন্থী ছয়জন শিক্ষক-কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জামায়াতে ইসলামী আমির ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, শাখা জামায়াত সেক্রেটারি ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আহসান, অফিসার সমিতির কোষাধ্যক্ষ মাসুদ রানা (জামায়াতপন্থী), বিএনপিপন্থীদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক ও প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম এবং অফিসার সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন।
যদিও মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দেখা যাচ্ছে না, তবে, বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা দাবি করেছেন, তাদেরও ‘মৌন সমর্থন’ রয়েছে। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে কারও দলীয় পরিচয়ের প্রশ্ন নেই। বিষয়টা আমাদের সবার পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত।’
এদিকে আজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মবিরতির অংশ হিসেবে পরীক্ষা ও জরুরি সেবা ছাড়া প্রায় সব দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে, কিছু বিভাগে ক্লাস ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চলমান ছিল।
অংশগ্রহণকারীরা ভর্তি পরীক্ষায় সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পুনর্বহাল, নিরাপত্তা বৃদ্ধি, কোয়ার্টার সংস্কারসহ আরও কিছু দাবি তুলে ধরেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
অফিসার সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, ‘ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা চালু আছে। তাহলে রাজশাহীতে আমাদের সন্তানরা কেন বঞ্চিত হবে? আমরা চাই, যারা যোগ্যতা অর্জন করে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, শুধু তাদের জন্যই এই সুবিধা থাকুক।’
ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক নুরুল আলম বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক–কর্মকর্তাদের যে সুবিধা আগে ছিল, তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সুবিধা এখনো বহাল আছে। তাই এটাকে কোটা বলা যাবে না, এটি কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা।’
শিক্ষার্থীদের পাল্টা কর্মসূচি
অন্যদিকে শিক্ষক–কর্মকর্তাদের এ আন্দোলনকে অযৌক্তিক দাবি করে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘একটি অন্যায্য দাবিকে রুখে দিতে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। অন্যায্য পোষ্য কোটার বিপক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঠে নামতে হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপাচার্য ও দুই উপ-উপাচার্য ফোন রিসিভ করে কেটে দিয়েছেন।
