ইউক্রেনের জন্য স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ চলছে

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৫, ১০:২৭ এএম

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ স্থগিতকরণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তা, যুদ্ধবিরতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেন।

স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ‘ইউক্রেনের অবকাঠামো ধ্বংসও আমাদের বন্ধ করতে হবে। এটি একটি ভয়াবহ যুদ্ধ।’ 

তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তিনি অচলাবস্থা ভেঙেছেন।’

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি ইউক্রেনের জন্য একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার লক্ষ্যে আপনার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে।’

তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিটি শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াও নিশ্চিত করতে হবে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, ‘আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে, পরবর্তী বৈঠক যুদ্ধবিরতি ছাড়া হবে। তাই আসুন আমরা এটি নিয়ে কাজ করি এবং রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করি।’

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বৈঠকে বলেন, ‘আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে, এটি আবার ঘটবে না—এটাই সব ধরনের শান্তির পূর্বশর্ত।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ‘গত কয়েক বছর আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি। এজন্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সমাধানের একমাত্র পথ।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘আমরা শুধু ইউক্রেনের নয়, পুরো ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার কথাই বলছি। এ কারণেই এটি এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।’

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব বলেন, ‘আজ আমরা এই টেবিলে বসেছি, এটি অত্যন্ত প্রতীকী। টিম ইউরোপ ও টিম যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সহায়তা করছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফিনল্যান্ডের রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও দেশটির অভিজ্ঞতা রয়েছে।

স্টাব যোগ করেন, ‘১৯৪৪ সালে আমরা একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছিলাম। আমি নিশ্চিত যে, ২০২৫ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে আমরা একটি সমাধান পাব এবং স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত শান্তি অর্জন করতে সক্ষম হব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত