দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া জাতীয় অগ্রগতি অসম্ভব: ড. ইউনূস

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫, ০১:০১ পিএম

অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দেশের স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ থাকা অপরিহার্য। যেকোনো পরিস্থিতি এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সুস্থ ও সক্রিয় প্রজন্ম গড়ে তোলা আজকের সময়ের প্রধান দায়িত্ব।

বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতা বৃদ্ধি লক্ষ্যে আয়োজিত ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় দেশের ৩৫টি মন্ত্রণালয় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে।

অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আজ আমরা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একত্রিত হয়েছি, যা শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, পুরো দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের সঙ্গে জড়িত। জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ থাকা বাধ্যতামূলক। দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ছাড়া ব্যক্তিগত জীবন থেকে জাতীয় উন্নয়ন—কোনোটিই সঠিকভাবে এগোবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় সব দেশে অসংক্রামক রোগের বিস্তার ক্রমশ বাড়ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান, আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব সংকটকে তীব্র করছে। তাই এটি জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা শুধু স্বাস্থ্য নয়, আমাদের অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে এবং এর মধ্যে ৫১ শতাংশ মানুষের মৃত্যু ঘটে ৭০ বছরের কম বয়সে, যা আমরা অকাল মৃত্যু হিসেবে গণ্য করি। ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয়ের ৬৯ শতাংশই এই রোগের জন্য হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করা যেমন জরুরি, তেমনি রোগগুলো যাতে কমে বা না হয়, তার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা অপরিহার্য। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের একার পক্ষে এটি সম্ভব নয়। এজন্য সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা, ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত—প্রতিটি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিটি খাত থেকে দরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও নিবিড় উদ্যোগ। এজন্য মন্ত্রণালয়গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত