চলতি বছর রুশ পরমাণু শিল্পের ৮০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ১৯৪৫ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন সোভিয়েত সরকার পরমাণু শক্তি বিষয়ক বিশেষ কমিটি তৈরি প্রতিষ্ঠা করে। শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠিত এই কমিটির তত্ত্বাবধানে চার বছরের মধ্যেই দেশটি পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম হয়। ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের আরডিএস-১ পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
একই সঙ্গে রাশিয়া পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ব নেতৃত্বে চলে আসে। রুশ বিশেষজ্ঞরা ১৯৫৪ সালে অবনিন্সক শহরে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মান করে এবং ১৯৫৯ সালে আর্কটিক সমূদ্রপথ ব্যবহারের স্বার্থে প্রথম পরমাণু শক্তিচালিত আইসব্রেকার ‘লেনিন’ এর উদ্বোধন করে।
এবছর উদযাপনের মূল থীম হলো ‘গর্ব, অনুপ্রেরণা এবং স্বপ্ন’।
গুরুত্বপূর্ণ এই বার্ষিকী উদযাপনের জন্য রাশিয়ায় বিভিন্ন ধরণের প্রোগ্রামের আয়োজন করা হচ্ছে, যার অধিকাংশই অনুষ্ঠিত হবে নিঝনি নভগোরাদে। অপর একটি উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট হলো ২৫-২৮ নভেম্বর মস্কোতে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড এটমিক উইক ২০২৫’ আন্তর্জাতিক ফোরাম।
গতকাল নিঝনি নভগোরাদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্বপ্নবাজদের যুগ’ শীর্ষক গালা ইভেন্ট। এতে রাশিয়ার সেলিব্রিটি বিভিন্ন শিল্পীরা শহরের মূল স্টেডিয়ামে পারফর্ম করে। রসাটমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৩০ হাজার দর্শক এতে যোগ দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। রাশিয়ার বিখ্যাত বলশয় থিয়েটারে অংশগ্রহণে ‘স্বপ্নবাজদের যুগ’ শীর্ষক একটি মিউজিক শোও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কাল বৃহস্পতিবার থেকে নিঝনি নভগোরাদ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে ‘এটম, আমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী। এখানে ভবিষ্যতে মানব কল্যানে ব্যবহৃত হতে পারে এমন পরমাণু প্রযুক্তি তুলে ধরা হবে। তরুণ চিত্রশিল্পী, বিজ্ঞানী, স্থপতি এবং মাল্টিমিডিয়া বিশেষজ্ঞরা এখানে অংশগ্রহণ করবেন। চিত্রকর্ম ছাড়াও পোস্টার এবং মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনীতে স্থান পাবে। বিভিন্ন বড় মাত্রার মক-আপ দেখার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা যার মধ্যে রয়েছে পরমাণু আইসব্রেকার, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং স্পেস রকেট। আধুনিক হাইটেক বিভিন্ন ডিভাইস বায়ো প্রিন্টার, মার্স অভিযানের জন্য ব্যবহৃত স্পেস স্যুট ইত্যাদি দেখার সুযোগ থাকবে।
এবার ওয়ার্ল্ড এটমিক উইক আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহন করবেন। এর অংশ হিসেবে আয়োজিত হবে প্রদর্শনী এবং শিক্ষামূলক ম্যারাথন।
৮০ বছর উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিভিন্ন ‘নিউক্লিয়ার’ সিটিতে অসংখ্য কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। ‘রসাটম কালচার টেরিটরি’ প্রোগ্রামের অধীনে আয়োজিত কনসার্টগুলোতে রাশিয়ার বিভিন্ন বিখ্যাত শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন।
