রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে শর্ত স্পষ্ট—দুই দেশের দ্বন্দ্ব সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সব বিষয় আগে থেকেই নির্দিষ্ট ও প্রস্তুত থাকতে হবে। এ তথ্য জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
সম্প্রতি পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে আলাদা বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাব দেন, সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আগে রাশিয়া-ইউক্রেন দুই নেতার মধ্যে একান্ত আলোচনা হওয়া জরুরি। একই সময়ে ওয়াশিংটনে গিয়ে জেলেনস্কিও প্রকাশ্যে জানান, তিনি পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী।
ল্যাভরভ গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, পুতিন বহুবার বলেছেন তিনি আলোচনায় রাজি। তবে তাঁর শর্ত হলো—শীর্ষ বৈঠক বসার আগেই প্রতিটি বিষয় সুসংগঠিতভাবে চূড়ান্ত করতে হবে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একসময় জেলেনস্কি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি পুতিনের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবেন না। এমনকি ২০২২ সালে তিনি একটি ডিক্রি জারি করে আলোচনাও আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন। এখনো সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়নি।
ল্যাভরভের অভিযোগ, জেলেনস্কি প্রকৃত অর্থে গঠনমূলক আলোচনার জন্য নয়, বরং ‘বিশেষ প্রভাব ও প্রদর্শনী’ তৈরির জন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন।
এদিকে ক্রেমলিন উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, সোমবার পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপে রাশিয়া-ইউক্রেন সরাসরি আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
রাশিয়ার অবস্থান পরিষ্কার—কোনো স্থায়ী সমাধান তখনই সম্ভব, যখন সংঘাতের মূল কারণগুলো নিরসন হবে, মস্কোর নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান ঘটবে এবং বর্তমান ভূখণ্ড বাস্তবতা মেনে নেওয়া হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ক্রিমিয়া ও ২০২২ সালের গণভোটের পর রাশিয়ায় যোগ দেওয়া চারটি ইউক্রেনীয় অঞ্চল—দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজঝিয়া ও খেরসন।
