প্রকৃতিতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে লাল শাপলার বিল

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৫২ পিএম

ছয় ঋতুর বাংলাদেশে এখন বইছে শরৎকাল। যদিও শরৎকাল তারপরও বর্ষার স্নিগ্ধতার রেশ এখনও রয়েছে প্রকৃতিতে-খালে-বিলের থৈ থৈ জলের ফুটে থাকা শাপলা ফুলে। শরতের সকালে শুভ্র নীল আকাশে সবেমাত্র উঁকি দিচ্ছে কুসুম সূর্য। সেই সূর্য শাপলার সবুজ পাতা আর লাল পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরে ধরা দিয়েছে চিকিমিকি মুক্তা হয়ে। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ছতুরপুর গ্রামের শেখ বাড়ির টোডা শাপলা বিলের ধারে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস পূর্বাঞ্চলে ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা বিজয়নগর উপজেলা। কৃষিতে সম্ভবনাময় এ অঞ্চলের নানা রকম ফুল ফল ও সবজি উৎপাদিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে বিজয়নগরে বাণিজ্যিক ভাবে লিচু, চায়না কমলা, গ্রীন মাল্টা উৎপাদন দিনদিন বেড়ে চলছে।

এদিকে ফলের মৌসুমে এক পর্যটন এলাকায় পরিণত হয় বিজয়নগর। ঐ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের মিলন মেলা ঘটে। বর্তমানে বিজয়নগর উপজেলায় টোডা বিলে লাল শাপলায় বর্ণিল সাজে সেজেছে এক অপরূপ সৌন্দর্যে। নতুন পর্যটন স্পষ্ট হিসেবে পরিচিত পেতে যাচ্ছে এ লাল শাপলা বিল। এ বিলে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকৃতি প্রেমী তরুণ-তরুণীরা আসছে।

উপজেলার ছতুরপুর শেখবাড়ি এলাকার এই বিল খ্যাতি পাচ্ছে লাল শাপলার বিল নামে। রোদের তাপে নুইয়ে পড়ে বলে ভোরের সূর্য উঠার আগেই লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন নানা প্রান্তের প্রকৃতিপ্রেমীরা। বিলের পানিতে ভেসে থাকা সবুজ পাতার মধ্যে উঁকি দিচ্ছে লাল শাপলা। যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রকৃতি প্রেমীদের। এমন প্রকৃতিতে বর্ষা শেষে শরতের আগমন।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিদিন ভোরে দূরদূরান্ত থেকে শত শত প্রকৃতিপ্রেমীরা ফুটে থাকা লাল শাপলার সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসছেন ছতুরপুর  এলাকার শেখেবাড়ি টোডা বিলে। কেবল সৌন্দর্য উপভোগই নয় এই লাল শাপলা হয়ে উঠেছে প্রান্তিক মানুষের জীবিকার উৎসও। এ বিল থেকে শাপলা ও শালুক আহরণ করে হাট বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে কেউ কেউ। তবে বিলে নৌকা না থাকায় আগত দর্শনার্থীরা বিলে তেমন ঘুরতে পারছেনা। পাড় থেকে দাড়িয়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।

দর্শনার্থী সুমন বলেন, আমি বন্ধুদের সঙ্গে এখানে লাল শাপলা দেখতে এসেছি। দেখে অনেক ভালো লাগল। তবে বিলে নৌকা না থাকায় বিলের মধ্যে ঘুরতে পারছি না। যদি বিলে ঘুরা যেত তাহলে আরো ভালো লাগত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা বলেন, আমি এখানে প্রথম এসেছি। বিলের শাপলা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। বিলের মাঝখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা ভালো হলে আরও দর্শনার্থী আসবে।

ছতুরপুর এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, আগে এখানে মানুষ আসতো না। এখন লাল শাপলা দেখে অনেক মানুষ দূর-দূরান্ত আসছে। বিনোদনের একটা জায়গা হয়েছে। সবাই তাদের ইচ্ছা মতো ছবি তুলছে।

দর্শনার্থী নাসরিন জাহান বলেন, বিলে এত লাল শাপলা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। পুরো বিল যেন লাল শাপলা ভয়ে আছে। হাজার হাজার লাল শাপলা ফুল ফুটেছে। প্রকৃতি যেন অন্যরকম সাজে সেজেছে। দেখতে খুবই সুন্দর লাগছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত