জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৮ আগস্ট। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫ টি পদের বিপরীতে মোট ২৫৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
হল সংসদে ২১ টি হলের প্রার্থী মোট ৪৬৭ জন। কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৭২৩ জন। জাকসুর খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটারের ৪৮.৮ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী হলেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা অনেকাংশেই কম। মোট প্রার্থীর মাত্র ২২.৮ শতাংশ নারী প্রার্থী। হল সংসদের ২১টি হলে মোট ৩১৫টি পদের মধ্যে ১৩৪টি পদের প্রার্থীদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এছাড়াও ৬২টি পদে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেননি। এর মধ্যে ছাত্রীদের ১০ হলেই ৫৪টি পদে কোনো প্রার্থী নেই।
জাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদের খসড়া প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় সংসদের তালিকায় পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ২১৯ জন। এদের মধ্যে সংরক্ষিত পুরুষ আসনের প্রার্থী ৬৮ জন। মোট নারী প্রার্থীর রয়েছেন ৩৭ জন। এদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী ৯ জন। হল সংসদ নির্বাচনে ২১ টি হলে সর্বমোট ৩১৫টি পদে ৪৬৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ছাত্রীদের হলগুলোতে মোট প্রার্থী ১২৮ জন। বাকি ৩৩৯ জন ছাত্র হলের প্রার্থী।
জাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২৫ টি পদের মধ্যে পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য ৪টি এবং নারী শিক্ষার্থীদের ৪টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এর বাইরে ১৬টি আসনে নারী ও পুরুষ উভয় শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারবেন।
নারী ও পুরুষের জন্য আলাদাভাবে নির্ধারিত ওই ৮টি আসনের বাইরের ১৬ টি আসনের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদসহ পাঁচটি পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই। শীর্ষ তিন পদে মোট ৬৬ প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ১১ জন।
সহ-সভাপতি পদে ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে একজনও নারী নেই। সাধারণ সম্পাদক পদে ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ২ জন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৯ জন নারী প্রার্থী রয়েছে। তবে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ৯ জনের মধ্যে কোনো নারী নেই, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৫ জনের মধ্যে কোনো নারী প্রার্থী নেই , সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে ১৪ জনের মধ্যে কোনো নারী নেই, পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে ৭ জনের মধ্যে কোনো নারী প্রার্থী নেই।
সংসদের শূন্য পদ গুলো কিভাবে পূরণ করা হবে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করছি। পরে জানানো হবে।”
