ভরাটের কথা বলে উল্টো বালু বিক্রি

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪৫ এএম

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পূর্ব সুলতানপুর বন্দর মার্কেট এলাকায় কালিদাস পাহালিয়া নদীর নবাবপুর ব্রিজের তলদেশ থেকে নদীভাঙন রোধের নামে গত ১৫ দিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে নবাবপুর ব্রিজ, এর তলদেশ এবং আশপাশের রাস্তাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে নবাবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ দায়ের করলে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

জহির উদ্দিনের দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, নদীর গতিপথ পরিবর্তন প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিংয়ের নামে বালু উত্তোলন করে অর্থের বিনিময়ে আশপাশের জমি, পুকুর ও জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। আর বালু বিক্রির বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করছেন ফরহাদনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাচ্চু এবং নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির।

গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণে নবাবপুর ব্রিজের তলদেশের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে এবং নদীভাঙনের ফলে আশপাশের রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীভাঙন রোধে বাঁকা নদী সোজা করার উদ্দেশ্যে চর কেটে গতিপথ পরিবর্তন ও নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে উত্তোলিত বালু দিয়ে আশপাশের জমি, পুকুর ও বাড়িঘর টাকার বিনিময়ে ভরাট করা হচ্ছে। জহির উদ্দিন ভূঁইয়ায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ ও উন্নয়ন) রোমেন শর্মা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আহসান এবং সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় চেয়ারম্যান সমর্থিত বিএনপি নেতাকর্মী এবং অভিযোগকারী পক্ষের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী পক্ষ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয় এবং ঠিকাদারি প্রথার পরিবর্তে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, ‘আমার ২১ ডিসিমিল জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাকে না জানিয়ে জমি ভরাট করা হয়েছে। যেখান থেকে বালু কাটার কথা, সেখান থেকে কাটা হচ্ছে না। আমার মতো অনেকের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমি এর প্রতিকার চাই।’

জহির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পক্ষে আমি অভিযোগ করেছি। বালু উত্তোলনের ফলে ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী সোজা করার জন্য চর কাটার সিদ্ধান্ত হলেও ফরহাদনগরের সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চু ও নবাবপুরের চেয়ারম্যান জহিরের তত্ত্বাবধানে নদীর মাঝখান থেকে বালু উত্তোলন করে টাকার বিনিময়ে জমি ও পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সেনাবাহিনী দিয়ে টেন্ডারের কাজ করানো হোক, যাতে এলাকাবাসী উপকৃত হয়।’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক জহির বলেন, ‘সরকার ৩৪ হাজার ঘনফুট বালু ড্রেজিংয়ের অনুমতি দিয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নদীভাঙন রোধে বালু উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো অবৈধ উত্তোলন করা হয়নি। কেউ প্রমাণ করলে আমি দায় নেব।’

অন্যদিকে অভিযুক্ত ফরহাদনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাচ্চু বলেন, ‘ উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বোট ও সরঞ্জাম আমি ভাড়া দিয়েছি এবং তদারকি করছি। সরকারের নির্দেশে নদী সোজা করার জন্য বালু উত্তোলন করে এক জায়গায় জমা করা হচ্ছে। এ বালুর ব্যবহার সরকারই ঠিক করবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোমেন শর্মা বলেন, ‘বালু উত্তোলন করে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরবর্তীকালে বিশেষজ্ঞরা আরও পরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করবেন। আমরা জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন জমা দেব। নদীভাঙন রোধে নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য চর কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কোনো অবৈধ স্বার্থ বা অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত