চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) নির্বাচন আয়োজনকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি করেছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। বুধবার (২৭ অগাস্ট) দুপুর ১২টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল।
পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের দাবি জানায় সংগঠনটি। একইদিন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাকসু নির্বাচন বানচালের অভিযোগ এনে ক্যাম্পাসে ঝটিকা মিছিল করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। দুপুরে চাকসু ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
দুপুর ১২টায় সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা চেয়ে বিভিন্ন দাবি জানায় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভ সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ চবি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি করেন।
চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, এই ক্যাম্পাসে এখনও ফ্যাসিস্টের দোসর ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীরা অবাধে ঘুরাঘুরি করছে। এই প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে না। এই পরিস্থিতিতে কতটুকু স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুভাবে এই চাকসু নির্বাচন আয়োজন করা যাবে, সেটা নিয়ে আমরা সন্দিহান। তাছাড়া এই প্রশাসনের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেনি। তাদের নৈতিক অবস্থান ক্ষুন্ন হয়েছে।
একইদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাকসু নির্বাচন বানচালের অভিযোগ এনে ঝটিকা মিছিল করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এ সময় ছাত্র সংগঠনটির নেতাকর্মীরা চাকসু ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
চবি ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ছাত্রদল যে কার্যক্রমগুলো করে যাচ্ছে গত কিছুদিন ধরে আমরা সেটার বিরুদ্ধেই আজকে এই ঝটিকা মিছিল করেছি। তারা বিভিন্ন অযৌক্তিক ইস্যুকে সামনে এনে শিক্ষার্থীদের বহুল প্রত্যাশিত চাকসুকে বানচাল করার চেষ্টা করছে। চাকসু নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করলে আমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেব।
ছাত্রদল কর্তৃক পদত্যাগ দাবির বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, চাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের একটা মাধ্যম। এই নির্বাচনের জন্য সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার ছাত্র সংগঠনগুলোর দায়িত্ব। ছাত্রদল একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সংগঠন। ছাত্রদলের উচিত ছাত্রদের কাছে কিভাবে জনপ্রিয় হওয়া যায় সেভাবে কাজ করা।
গত সোমবার (২৫ আগস্ট) চাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় ছাত্রদল। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে চাকসু নির্বাচনের কার্যক্রম থেকে তাদের অব্যাহতি চায় সংগঠনটি। পরদিন গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ছাত্রদলের ওই স্মারকলিপির প্রতিবাদে পাল্টা প্রতিবাদ লিপি দেয় শাখা ছাত্রশিবির।
এ সময় ছাত্রদল চাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো কাজে চবি রেজিস্ট্রার সম্পৃক্ত নেই।
