গাজায় একদিনে আরও ৬১ জন নিহত

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৮:১৫ এএম

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) অন্তত ৬১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ জন ছিলেন মানবিক সহায়তার খোঁজে যাওয়া সাধারণ মানুষ। একই দিনে অনাহার ও অপুষ্টিতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও চারজন, যাদের দুজন শিশু। এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

ভোর থেকে টানা বোমাবর্ষণে গাজার রাজধানী নগরীর পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল কেঁপে ওঠে। বাসিন্দারা জানান, শুজাইয়া, জায়তুন ও সাবরা এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সিভিল ডিফেন্সের হিসাব অনুযায়ী, শুধু জায়তুনের দক্ষিণাংশেই ধ্বংস হয়েছে ১ হাজার ৫০০-র বেশি বাড়িঘর।

গাজার সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। তবে আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, এ অভিযানে বিপুল প্রাণহানি ঘটতে পারে এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হবেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি যুদ্ধের ‘একটি নতুন ও ভয়াবহ ধাপের সূচনা’। 

তিনি সতর্ক করেন, ‘গাজা নগরীতে সেনা অভিযান ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। লাখো বেসামরিক মানুষ, যারা আগেই ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, আবারও ঘর ছাড়তে বাধ্য হবেন। এতে পরিবারগুলো আরও গভীর বিপদে পড়বে।’

তাঁর ভাষায়, ‘এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মূলত ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্তের ফল, যা মানবিকতার পরিপন্থি।’

ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, তারা সশস্ত্র যোদ্ধা ও তাদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত তিনজন যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কাদের হত্যা করা হয়েছে বা কীভাবে পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে—তা জানায়নি তারা।

এদিকে ওয়াফার খবরে বলা হয়েছে, খানের ইউনিসে বাস্তুচ্যুতদের এক তাঁবু শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এক নারী ও তার শিশু বৃহস্পতিবার হামলায় নিহত হন।

জাতিসংঘের সাতজন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, গাজায় কিছু মানুষ, যাদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে, ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে খাবারের খোঁজে গিয়ে জোরপূর্বক গুম হয়ে গেছেন। তাঁদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্ষুধার্ত মানুষকে গুম করা কেবল বিস্ময়করই নয়, বরং এটি নির্যাতনের শামিল।’

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ‘খাবারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক ও গণহারে মানুষ নিখোঁজ করার প্রক্রিয়া এখনই বন্ধ করতে হবে।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার অনাহারে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। চলমান যুদ্ধে ক্ষুধাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৩১৭, যার মধ্যে শিশু ১২১ জন।

আল-জাজিরার দেইর আল-বালাহ প্রতিনিধি তারেক আবু আজযুম জানান, ‘অত্যন্ত করুণ দৃশ্য চোখে পড়ছে। পরিবারগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রচণ্ড গরমে স্যুপ রান্নার লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রায়ই খালি হাতে ফিরছে। অন্যরা আবার জীবন ঝুঁকিতে ফেলে খাবারের জন্য বিতরণকেন্দ্রে ছুটছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত