রাজনীতিকরা যাতে ভবিষ্যতে গুম-খুন না করেন, মিথ্যা মামলা বন্ধ করেন- সে বিষয়ে তাদের কাছে অঙ্গীকার চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৫’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সারা হোসেন রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিনা বিচারে মাসের পর মাস লোকজনকে আটকে রাখবেন না। মধ্যরাতে লোকজনকে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে যাবেন না বিনা কারণে। এই অঙ্গীকারগুলো আপনারা করুন। তাহলেই আমরা বিশ্বাস করব, পরিবর্তন আসবে।’
সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েছে। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আমরা মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করব। একই সঙ্গে গুম ও শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াব।’
গুমের শিকার পরিবারের চলমান ভোগান্তি নিরসনে সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান। তিনি জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার মৃত্যু সনদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এখনো নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন গুম কমিশনের সদস্য নূর খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস প্রমুখ।
