গুমের অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: আইন উপদেষ্টা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩৩ পিএম

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরেই গুম বিষয়ক কমিশন গঠন করেছে। যাতে বিগত সরকারের আমলে গুম হওয়া অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা যায়। এ ছাড়া সরকার জাতিসংঘের (ইউএন) সাথে গুম সংক্রান্ত বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যাতে এই ধরনের গুমের ঘটনা দেশে আর না ঘটে। ভবিষ্যতে আর কেউ যেন গুমের শিকার না হয়।

আজ শনিবার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে ‘রাউন্ডটেবল ডিসকাশন: অন দ্য রোড টু একাউন্টেবিলিটি: কমেমোরেটিং দ্যা ডে ফর দ্যা ভিকটিমস অব এনফোর্সমেন্ট ডিজঅ্যাপেয়ারেন্টস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আসিফ বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা প্রায় ২০ হাজার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহারের পর বিভিন্ন স্টেক হোল্ডার এবং অংশীজন আমাদের জানালেন, এসব মামলায় সত্যিকারের কিছু জঙ্গি ও সন্ত্রাসী রয়েছে। এব্যাপারে আমি নাবিলাকে (গুম কমিশনের সদস্য) বলেছি, জঙ্গি বা সন্ত্রাসী নয়, এমন কেউ যদি হয়রানিমূলক মামলায় অভিযুক্ত হন, তাদের বিষয়ে কনক্রিট প্রমাণ থাকলে আইন মন্ত্রণালয়ে নিয়ে আসলে সেটা দ্রুত সমাধান করা হবে।

শিল্প উপদেষ্টা আদিলুল রহমান খান বলেন, গুমের সব এভিডেন্স থাকার পরও বিভিন্ন বাঁধার কারণে আমাদের এখনও সংগ্রাম করতে হচ্ছে। গুম কমিশন ইতোমধ্যে দু’টি রিপোর্ট দিয়েছে। এই দু’টি রিপোর্ট দেয়া মানে কমিশনের কাজ শেষ হয়ে গেছে তা নয়। 

তিনি বলেন, দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেছে কিন্তু এবারের সাড়ে ১৫ বছরের লড়াইটা ছিল অনেক দীর্ঘ এবং ভয়াবহ। পরিণতি ৩৬ দিনে আসলেও এর পিছনে হাজার হাজার মানুষের রক্ত এবং তাদের ভয়াবহ নির্যাতনের ইতিহাসের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আমরা বিগত সরকারের নির্যাতনের ডিটেনশন সেন্টার, আয়নাঘর গুলো যদি মিউজিয়াম হিসেবে রক্ষা করতে পারি, তাহলে তা আগামী প্রজন্মের জন্য  স্বৈরাচারের ইতিহাসের চিহ্নিত অংশ হয়ে থাকবে।

গুম সংক্রান্ত কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিআইইডির সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস। এই প্রবন্ধে কীভাবে গুম করা হতো, কতজন গুম হয়েছে, গুমের পর কোথায় রাখা হতো, কি ধরনের মামলা দেয়া হতো, ৫ আগস্টের পর গুমের স্থান বা আলামত কীভাবে নষ্ট করা হয়েছে তা উপস্থাপন করা হয়।

গুমের শিকার মাইকেল চাকমা অনুষ্ঠানে বলেন, গুমের সাথে যারা জড়িত ছিলেন তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে।

গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত