গাইবান্ধায় নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় কারাগারে স্বামী

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭:১২ পিএম

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ১৮ বছর বয়সী এক নববধূকে বাসর রাতে গণধর্ষণের অভিযাগে মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর স্বামী আফিস মিয়াকে আজ রবিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে শনিবার সকালে ধর্ষণের জড়িত সন্দেহে পুলিশ স্বামীসহ সাত জনকে আটক করেছিল। পরে তাদের পুলিশ ছেড়ে দেয়। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই নববধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের ওসমানের পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফাহাদ আল আসাদ জানান, গত শুক্রবার দুপুরে ২টার দিকে ওই নারী হাসপাতালে আসেন। সঙ্গে আরও দুইজন নারী ছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে এখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা নিতে আসা ওই নারীর শরীরে ধর্ষণ ও শারিরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, সাঘাটা উপজেলার ওসমানের পাড়া গ্রামের আশাদুল ইসলামের ছেলের সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ভাগগরীব গ্রামের নাজিম উদ্দিনের মেয়ের বিয়ে হয়। গত বুধবার ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন মোহর ধার্য করে পারিবারিক ভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর স্বামী আসিফ মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে যান। 

বৃহস্পতিবার রাতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বর ও তার ছয় বন্ধুকে বাড়ির লোকজন মারধর করে গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের সাঘাটা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।

রবিবার সকালে ওই ছয়জনের পরিবারের লোকজন সাঘাটা থানায় এসে জানান, বিনা অপরাধে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। পরে সাঘাটা থানা থেকে ওই ছয়জনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা, সাইফুল ইসলাম (৪৫) বলেন, বুধবার শেষ রাতে বিয়ে বিদায় হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণের শিকার হন ওই মেয়ে। পরেরদিন শুক্রবার দুপুরে বাবার বাড়িতে এসে ওই মেয়ে অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে, সংঘবদ্ধ ধষর্ণের অভিযোগ আটক ছয়জনকে তদন্ত ছাড়াই থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধষর্ণের অভিযোগে স্বামীসহ ওই ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ তদন্ত ছাড়াই তাদের থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ কিভাবে জানল, ওই ছয়জন ধর্ষণে জড়িত নয়? ওই নববধূর কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পরই ওই বর ও তার বন্ধুদের মারধর করে পুলিশে দিয়েছিলাম।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাঘাটা থানার ওসি বাদশা আলম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ওই নববধূর ভাই জাহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় একজনের নাম উল্লেখ করে ও চার পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে ওই নববধুর স্বামী আসিফ মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলায় ওই ছয়জনের কারো নাম নেই। তাই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত