সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে খেলাটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার হয়ে ঘরের মাঠে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের এ লড়াইয়ে নামার আগে আলবিসেলেস্তেরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া আসরের টিকিট। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচ তাদের দেশের বাইরে, আর বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে আর কোনো ম্যাচের সূচি নেই। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপই হবে মেসির শেষ বড় আসর। সে সময় তার বয়স হবে ৪০ বছর। সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে খেলাটিকে ঘরের মাঠে মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে ধরে নানা আয়োজন করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
এএফএ সমর্থকদের নির্দেশনা দিয়েছে ম্যাচ শুরুর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে মাঠে উপস্থিত থাকতে। জানা গেছে মনুমেন্তালে ৮৫ হাজার দর্শক উপস্থিতিতে কনসার্ট হবে। এ ছাড়াও থাকছে বাড়তি আয়োজন, আর সেটি মেসিকে ঘিরে এমনই খবর।
এই মনুমেন্তালে জাতীয় দলের জার্সিতে দেশের মাটিতে প্রথমবার মাঠে নেমেছিলেন মেসি, দিনটা ছিল ২০০৫ সালে ৯ সেপ্টেম্বর। তার আগে মেসি জাতীয় দলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন, তা ছিল দেশের বাইরে। মনুমেন্তালে সেদিন হোসে পেকেরমানের আর্জেন্টিনা ২-০ তে পেরুকে হারিয়েছিল, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। সেই ম্যাচের মেসি জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবার তো পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলেছিলেন। করেছিলেন একটি অ্যাসিস্টও। ২০০৫-এ শুরু হওয়া সেই যাত্রা ২০ বছর পূর্ণ করবে কয়েকদিন পরই। এই ২০ বছরে আর্জেন্টিনায় এসেছেন পাঁচ প্রেসিডেন্ট, বিশ্বে নির্বাচিত হয়েছেন তিনজন পোপ, হয়েছে পাঁচটি ফুটবল বিশ্বকাপ, ডলারের দাম বেড়েছে। পৃথিবী বদলেছে এমনভাবে, যা আগে কল্পনাও করা যেত না। এখন এসেছে এআই প্রযুক্তি। তবে মেসিতে মুগ্ধ হওয়া যেন কমেনি একটুও, বরং সময়ের সঙ্গে বেড়েছে।
মেসির জাতীয় দলে জার্সিটা ১৯ থেকে ১০ হয়েছে। মেসি খেলে ফেলেছেন মোট ১৯৩ ম্যাচ। জিতেছেন, একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমা। এই পথ পাড়ি দেওয়ার সময় বহু রেকর্ড নতুন করে লিখেছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় মেসি, সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। মেসি এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ১১২ গোল, যা তাকে বানিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও। জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট করেছেন ৬১টি। সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক ১০টি। আর্জেন্টিনার একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে কনমেবল অঞ্চলের সব দলের বিপক্ষে গোল করার রেকর্ডটাও মেসিরই। বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও গোলও তার। যা সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপে আরও বাড়বে।
কনমেবল অঞ্চলে বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি গোলও (৩৪টি) তার। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তিটা যৌথভাবে মেসি গড়বেন ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই। এবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কনমেবল অঞ্চলে মেসি গোল করেছেন ৬টি। ৭ গোল নিয়ে সবার ওপরে আছেন কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ। মেসি যদি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে শেষ দুটি ম্যাচই খেলেন এবং এবারও শীর্ষ গোলদাতা হন তবে টানা পাঁচ বাছাইয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন। (২০১০ বাছাই থেকে শুরু করে ২০২৬ পর্যন্ত)। মেসি পেশাদার ক্যারিয়ারে জিতেছেন ৪৬টি ট্রফি। আটবারের (সর্বোচ্চ) ব্যালন ডি’অর জয়ী তিনি। ফিফার বর্ষসেরাও আটবার। এছাড়া ক্লাব পর্যায়ে এবং জাতীয় দলের হয়ে আরও রেকর্ড গড়েছেন।
কদিন আগে ভেনেজুয়েলা ম্যাচ নিয়ে মেসি বলেছিলেন, ‘ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচটা আমার জন্য বিশেষ হবে, কারণ এটা আর্জেন্টিনায় বাছাইপর্বে আমার শেষ ম্যাচ। এটা খুবই বিশেষ একটি ম্যাচ হবে। আর তাই আমার স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা, ভাইবোন সবাই থাকবে আমার সঙ্গে।’ মেসির এমন কথার পর তার আর্জেন্টাইন সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস বলেন, ‘আমি এই খবরের জন্য প্রস্তুত নই। আমি এটা মানতে চাই না, ভাবতেও চাই না।’
মেসি আর্জেন্টিনার মাঠে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের জার্সিটাও হয়তো তুলে রাখবেন। তাই মেসিকে উপভোগ করাই শ্রেয়। যেমনটা বলেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি, ‘আমরা তাকে যতদিন পাই, উপভোগ করি। ভাবি না যে সে যখন থাকবে না তখন কী হবে। শুধুই উপভোগ করি, ভবিষ্যতের চিন্তা না করে।’
আর্জেন্টিনা-ভেনেজুয়েলা ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায়। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এবার ১৬ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্টে শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা। শেষ দুই ম্যাচে হারলেও তারাই শীর্ষে থাকবে। ভেনেজুয়েলা ১৬ ম্যাচে ১৮ পয়েন্টে আছে ৭ নম্বরে। কনমেবল অঞ্চল থেকে শীর্ষ ৬ দল সরাসরি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে। সপ্তম হওয়া দল খেলবে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ।
