ইউক্রেন চুক্তি না মানলে সামরিক পদক্ষেপ, চীন থেকে হুমকি পুতিনের

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৩০ পিএম

ইউক্রেন যদি চুক্তি করতে রাজি না হয় তবে রাশিয়া তার সব উদ্দেশ্য অর্জনে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার চীনে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার পর এ মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার এই মন্তব্যকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিশ্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধ অবসানে পুতিনকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ট্রাম্পের 'আন্তরিক প্রচেষ্টা'র প্রশংসা করলেও এখন পর্যন্ত ওই পথে যাননি তিনি। যুক্তরাজ্যের ডিফেন্স সেক্রেটারি জন হিলি কিয়েভ সফরের সময় বলেন, ট্রাম্প পুতিনকে আলোচনার টেবিলে এনেছেন এবং তাকে আরও চাপ দেওয়ার সম্ভাবনা উঁড়িয়ে দেননি।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো পুতিনের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে.... এবং ইউক্রেনকে যুদ্ধে টিকে থাকতে অতিরিক্ত সহায়তা দিতে ইচ্ছুক।’

গত মাসে আলাস্কায় পুতিনের সাথে বৈঠক করে তাকে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বের করে এনেছেন ট্রাম্প। তিনি পুতিনকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে সাক্ষাতে রাজি করানোর চেষ্টাও করেছিলেন।

বুধবার পুতিন বলেছেন, আমি কখনো এমন বৈঠকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেইনি। কিন্তু এর কি কোনো অর্থ আছে? দেখা যাক। এই ধরনের বৈঠকের ফলাফল পেতে হলে প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় এবং জেলেনস্কি সবসময়ই মস্কোয় তার সাথে দেখা করতে যেতে পারেন।

তবে জেলেনস্কির মস্কো যাওয়ার বিষয়টি যে 'অগ্রহণযোগ্য' তা বোধগম্য বলে দ্রুত উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু বৈঠকের বিষয়ে পুতিনের অস্বীকৃতিকে রাশিয়ার ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাড়াতে আহ্বান জানানো একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গেও পুতিন বেইজিংয়ে দেখা করেছেন। পরে কিম জানান উত্তর কোরিয়া ভাই হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকে রুশ সেনাবাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন কিমকে ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য সৈন্য পাঠানোর কারণে ধন্যবাদ জানান। একইসাথে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে বিশ্বাস, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বিশেষ সম্পর্ক বলে বর্ণনা করেন।

গত মাসে আলাস্কায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প পুতিনকে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেন। কিন্তু সম্মেলনের পর তিনি জানান সংঘাত অবসানের জন্য শান্তি চুক্তির পথ খোঁজা হবে আরও কার্যকর উপায়।

যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন পুতিন এবং ইউরোপীয় শহরগুলোতে হামলা আরও তীব্র করেছে তারা সেনারা। শুধু বুধবার রাতেই রাশিয়া পাঁচশোর বেশি ড্রোন ও ২৪ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত