জেলেনস্কির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসার 'কোনো অর্থ নেই' বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়ার পরই পুতিন এই প্রতিক্রিয়া জানালেন।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে পুতিনকে সরাসরি আলোচনার আহবান জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ নিয়ে আবার যুক্তরাষ্ট্র মাথা ঘামাবে, এমন আশায় থাকা হবে বড় ‘ভুল’। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন তিনি। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই আলোচনা থেকে মনোযোগ সরে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের। ফলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

এদিকে পুতিন জেলেনস্কির চিঠিকে ‘অমার্জিত’ আখ্যা দিয়ে বৈঠকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। নিজের আগের অবস্থা পুনর্ব্যক্ত করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও ধরনের যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত।

শুক্রবার (৬ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, এই মুহূর্তে আমি এর (জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক) কোনও প্রয়োজন দেখছি না। এটি কি মুখোমুখি বৈঠকের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার প্রচেষ্টা ছিল, নাকি এমন একটি পদক্ষেপ ছিল যাতে মুখোমুখি বৈঠক না হয়? আমার মনে হয়, দ্বিতীয়টিই সঠিক।

পুতিনের এই প্রতিক্রিয়া শোনার পর ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া আবারও যুদ্ধকেই বেছে নিচ্ছে। তিনি (পুতিন) যুদ্ধ শেষ করতে চান না। আমার মনে হয় বিশ্বের অনেক মানুষই এই উত্তরে হতাশ হয়েছে।

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে রাশিয়া বেশ কয়েকটি বিষয়কে সামনে এনেছে। সেগুলো হচ্ছে– ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিজ্জিয়া অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে এবং একই সঙ্গে ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টাও বাদ দিতে হবে।

তবে কিয়েভ কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি নয়। ইউক্রেনের যুক্তি হলো, মস্কোকে কোনও ধরনের ভূখণ্ডগত ছাড় দিলে ভবিষ্যতে তারা আরও আগ্রাসী হয়ে আবারও আক্রমণ করতে উৎসাহিত হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত