সৌদি আরবে ড্রোন বিক্রিতে নতুন পথ

ট্রাম্পের হাত ধরে ৩৮ বছর পুরনো ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির ব্যাখ্যা বদল

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:০১ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির ব্যাখ্যা বদলে উন্নত সামরিক ড্রোন বিদেশে বিক্রির উদ্যোগ নিচ্ছেন। এ পদক্ষেপ নিলে সৌদি আরবের কাছে একশর বেশি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে।

সৌদি আরব চলতি বছরের বসন্তেই এ অনুরোধ জানায় যা গত মে মাসে ঘোষিত ১৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বিশাল অস্ত্র চুক্তির অংশ হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের দেশগুলিও মার্কিন ড্রোন কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

ড্রোনগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং এফ-১৬ এর মতো যুদ্ধবিমান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ১৯৮৭ সালের ৩৫ দেশের মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (এমটিসিআর) চুক্তির সীমাবদ্ধতা এড়ানো যাবে। এভাবে আমেরিকা সহজেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, পূর্ব ইউরোপের দেশসহ আরও অনেক ক্রেতাকে উন্নতমানের মানববিহীন আকাশযান দিতে পারবে।

নতুন নীতিমালায় জেনারেল অ্যাটমিক্স, ক্রাটোস এবং অ্যান্ডুরিলের মতো ড্রোন নির্মাতা কোম্পানিগুলোর পণ্য ‘ফরেন মিলিটারি সেলস’ প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে। এতে আন্তর্জাতিক বিক্রি আরও সহজ হবে।

এমটিসিআর মূলত গণবিধ্বংসী অস্ত্র বহনে সক্ষম দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিক্রি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তৈরি হয়েছিল। তবে ড্রোনকে পরে এ চুক্তির আওতায় ধরা হয়, কারণ এগুলো দীর্ঘ দূরত্ব উড়তে পারে এবং অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। কিন্তু মার্কিন কোম্পানিগুলো এখন ইসরায়েল, চীন ও তুরস্কের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে।

চীন ও ইসরায়েল এমটিসিআরে সদস্য নয়, ফলে তারা সহজে বাজার দখল করেছে। তুরস্কও তার বেরাখটার-টিবি২ ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনে কার্যকারিতা দেখাতে পেরেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন ব্যাখ্যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন বিক্রিতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব নিতে পারবে এবং চীন-তুরস্কের কাছে বাজার হারাবে না। নতুন নীতিমালা বিশেষভাবে বড় আকারের, জেট-ইঞ্জিনচালিত উন্নত ড্রোন বিকাশে সহায়তা করবে, যেগুলো ভবিষ্যতে যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ‘উইংম্যান’ হিসেবে উড়তে পারবে।

প্রথম লক্ষ্য সৌদি আরব

নতুন নীতির আওতায় প্রথম বড় বিক্রি হতে পারে সৌদি আরবের কাছে। যদিও ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মানবাধিকার ইস্যুতে সৌদি আরবকে অস্ত্র বিক্রি সীমিত করেছিলেন, পরবর্তীতে হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের পর ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সম্পর্ক আবার ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

হোয়াইট হাউস এ পদক্ষেপকে ট্রাম্পের কর্মসংস্থান তৈরি ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখাতে পারে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মতো অস্থিতিশীল অঞ্চলে সহিংসতা বাড়াতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত