বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ডের কোষাগারে ২৭ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০০ এএম

এটা সবাই জানে যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডই (বিসিসিআই) হলো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড। গত পাঁচ বছরে বোর্ডের আর্থিক সক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় তাদের ব্যাংক ব্যালেন্স বেড়েছে প্রায় ১৪,৬২৭ কোটি রুপি বা ১৯,৩২১ কোটি টাকা। ২০২৪ অর্থবছরের হিসাবে বিসিসিআইয়ের ব্যাংক ব্যালেন্স দাঁড়িয়েছে ২০,৬৮৬ কোটি রুপি, যা ২৭,৩৪৭ কোটি টাকার সমান।

বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে বিসিসিআইয়ের নগদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স ছিল ৬,০৫৯ কোটি রুপি (প্রায় ৭,৯৯৭ কোটি টাকা)। অথচ এখন রাজ্য ক্রিকেট সমিতিগুলোকে বকেয়া প্রদান করেও সেই অঙ্ক বেড়েছে। বিসিসিআইয়ের সাধারণ তহবিলও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে ছিল ৩,৯০৬ কোটি রুপি (প্রায় ৫,১৫৬ কোটি টাকা), ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,৯৮৮ কোটি রুপি (প্রায় ১০,৫৪৪ কোটি টাকা)।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের আয়কর বাবদ ৩,১৫০ কোটি রুপি (প্রায় ৪,১৫৮ কোটি টাকা) সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সম্প্রচার থেকে বিসিসিআইয়ের আয় কিছুটা কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় ছিল ২,৫২৪.৮০ কোটি রুপি (প্রায় ৩,৩৩৩ কোটি টাকা)। কিন্তু ২০২৩-২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮১৩.১৪ কোটি রুপিতে (প্রায় ১,০৭৩ কোটি টাকা)। কারণ, ওয়ানডে বিশ্বকাপের কারণে দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ কম ছিল।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক সফর ও ইভেন্ট থেকে আয়ও কমেছে। আগের বছর আয় হয়েছিল ৬৪২.৭৮ কোটি রুপি (প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা), যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬১.২২ কোটি রুপিতে (প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকা)। তবে বিনিয়োগ ও ব্যাংক সুদ থেকে আয় বেড়েছে। আগের বছরে সুদ থেকে আয় ছিল ৫৩৩.০৫ কোটি রুপি (প্রায় ৭০৩ কোটি টাকা)। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮৬.৪৫ কোটিতে (প্রায় ১,৩০১ কোটি টাকা)।

সবমিলিয়ে বিসিসিআইয়ের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১,৬২৩.০৮ কোটি রুপি (প্রায় ২,১৪২ কোটি টাকা), যা আগের বছরের ১,১৬৭.৯৯ কোটি  রুপির (প্রায় ১,৫৪১ কোটি টাকা) থেকে অনেক বেশি। মূলত আইপিএল ২০২৩ ও আইসিসি থেকে পাওয়া অর্থে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে। তবে এত টাকা শুধু ব্যাংকে ফেলে রাখছে না বিসিসিআই। ক্রিকেটের উন্নয়ন ও খেলোয়াড় কল্যাণে বিশাল অঙ্ক বরাদ্দ করেছে।

এগুলোর মধ্যে আছে- অবকাঠামো উন্নয়নে ১,২০০ কোটি রুপি, প্লাটিনাম জুবিলি বেনেভোলেন্ট ফান্ডে ৩৫০ কোটি রুপি, ক্রিকেট উন্নয়ন অবকাঠামোতে ৫০০ কোটি রুপি। এছাড়া রাজ্য ক্রিকেট সমিতিগুলোর জন্য ২০২৩-২৪ সালে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১,৯৯০.১৮ কোটি রুপি (প্রায় ২,৬২৭ কোটি টাকা), আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২,০১৩.৯৭ কোটি রুপি বা ২,৬৫৭ কোটি টাকা। বিসিসিআইয়ের এই আর্থিক সাফল্য নিঃসন্দেহে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ঈর্ষণীয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত