ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রতিবাদে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেনারেশন জেডের (জেন জি) বিক্ষোভে উত্তাল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন এলাকা। এরইমধ্যে নেপালের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, সোমবার হাজারও বিক্ষোভকারী পার্লামেন্ট ভবনে ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় তরুণদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে একজন নিহত হন।
নেপাল টেলিভিশন জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে একজন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কমপক্ষে ছয়জন মারা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন এবং তাদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একটি দল সংসদ অভিমুখে যাওয়া একটি নিরাপত্তা গাড়ি থামিয়ে দেয় এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসন কাঠমান্ডুর বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। পাশাপাশি দেশের অন্য বড় শহরগুলোতেও বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ করছেন।
গত শুক্রবার নেপালে ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের লাখো ব্যবহারকারী নেপালে রয়েছেন, যারা বিনোদন, সংবাদ ও ব্যবসার জন্য এসব প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল।
এর মধ্যে সোমবার জাতীয় পতাকা হাতে জেন-জি বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সংগীত গেয়ে আন্দোলন শুরু করে। এরপরই তারা সোশ্যাল মিডিয়ার নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দেন।
ইউজন রাজভাণ্ডারি নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ। এ ছাড়া নেপালে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমরা প্রতিবাদ করছি।’
গত মাসে নেপালের মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে সাত দিনের মধ্যে নেপালে নিবন্ধন করতে হবে, যোগাযোগের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে হবে এবং একজন অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা ও কমপ্লায়েন্স অফিসার মনোনীত করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত গত বছরের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর নেওয়া হয়।
রোববার এক বিবৃতিতে নেপাল সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্ল্যাটফর্মগুলো সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। তবে এর আগেও নেপালে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার ইতিহাস রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে অনলাইন প্রতারণা ও অর্থপাচারের উদ্বেগ দেখিয়ে টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্লক করে সরকার।
