নেপালের কাঠমান্ডুতে সম্প্রতি তরুণদের আন্দোলন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত উনিশ জন নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার পর সরকার ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নেপালের যোগাযোগ ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার তরুণ আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছে এবং দ্রুত বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সোমবারের সহিংসতা তদন্তের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
গত বছর নেপালের সুপ্রিম কোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে সরকারিভাবে নিবন্ধিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ২৮ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নিবন্ধনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানগুলো তা পূরণ না করায় ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্মে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি থাকলেও দ্রুত আন্দোলন সরকারবিরোধী হয়ে ওঠে। কাঠমান্ডুর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত বিশ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়।
বিক্ষোভের প্রভাবেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করেন, এবং প্রধানমন্ত্রী অলির পদত্যাগের দাবি ওঠে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার শুধু নেপালের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিল, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
ডাকসুর মধ্য দিয়ে নির্বাচনের ট্রেনে বাংলাদেশ: উপদেষ্টা ফারুকী
ডাকসুর কেন্দ্রে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা, সরিয়ে দিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা