সখীপুরে স্কুলের মাঠ দখল করে বাঁশের হাট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের কামালিয়া চালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রায় দুই দশক ধরে বসেছে বাঁশের হাট। সপ্তাহে নির্ধারিত দিন সোমবার হলেও, রবিবার সকাল থেকেই দূর-দূরান্তের বিক্রেতারা বাঁশ নিয়ে আসতে শুরু করেন। বিদ্যালয় মাঠে এভাবে হাট বসানোয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার কার্যক্রম ও খেলাধুলা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাঠজুড়ে হাজার হাজার বাঁশ স্তূপ করে রাখায় শিশুদের জন্য স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। একই ফটক দিয়ে ব্যবসায়ীরা বাঁশ আনা-নেওয়া করায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। 

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের বর্তমানে ১১০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ভেতরেই জমে উঠেছে বাঁশের হাট। পুরো বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয়েছে হাজার হাজার বাঁশ। আর ব্যবসায়ীরা বাঁশগুলো কাঁধে করে মাঠে আনা নেওয়া করছে বিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়েই। অথচ ওই একই ফটক দিয়ে শিক্ষার্থীরাও আসা যাওয়া করছে। এমন অবস্থায় যে কোন মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা। 

সপ্তাহে রবি-সোম দুদিন হাটের কার্যক্রম চলে, ওই দুদিন পুরো বন্ধ থাকে বিদ্যালয় মাঠ। রবি-সোম খেলাধুলা তো দূরের কথা, বিদ্যালয়ের বারান্দা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে হাঁটা চলাও দুষ্কর হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের। এমনকি শ্রেণিকক্ষের সামনেও বাঁশ রাখা হয়েছে বিক্রির উদ্দেশ্যে। সোমবার বিকেলে হাট শেষ হলেও, খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত থাকে না মাঠ। কারণ দুদিনের হাট শেষ হওয়ার পরে, মাঠজুড়ে বাঁশের স্তূপ, কাঁদা ও বাঁশের টুকরায় ভরা থাকে প্রায় সারাবছরই। এজন্য শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চতুর্থ শ্রেণির আবদুল্লাহসহ একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, মাঠে বাঁশ রাখে, এজন্য কাঁদা হয়। তাই আমরা ঠিক মতো কোন খেলাধুলা করতে পারি না।

অভিভাবক আবদুল করিম বলেন, বিদ্যালয় মাঠে বাঁশ রাখায় বাচ্চাদের খেলাধুলায় সমস্যা হচ্ছে। আমাদের উচিৎ মাঠটা রক্ষা করা। যাতে বিদ্যালয় এবং এলাকার শিশু কিশোররা সুন্দরভাবে খেলাধুলা করতে পারে।

হাটের ইজারাদার নব্বেস আলী জানান, এই মাঠটা বিদ্যালয়ের জমি না, জমিটা ব্যক্তি মালিকানা। 

জমির মালিকানা দাবি করা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, বিদ্যালয়ের ১০০ শতাংশের জমিটা আমার নানা দান করে গেছেন। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর যখন দেওয়া হয়, তখনই আমি বাঁধা দিয়েছিলাম। কারণ, বিদ্যালয়ের সামনের বেশির ভাগ জায়গা ব্যক্তি মালিকানা। কিন্তু তখন জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, আমি এই বিদ্যালয়ে ২০১৮ সালে যোগদান করি। আগে থেকেই, বিদ্যালয় মাঠে বাঁশের হাট ছিল। আমি আসার পর বিদ্যালয় মাঠে সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। আমি তাদের অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু তারা কথা শুনে না। বিদ্যালয়ের ১০০ শতাংশ জমি থাকলেও, তা চিহ্নিত করা হয়নি বলে বেশি সমস্যা হচ্ছে। আমরা চাই মাঠটা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকুক, যাতে তারা সুন্দরভাবে খেলাধুলা করতে পারে। এ ব্যাপারে আমি শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, বিদ্যালয় মাঠে হাট বসে, বিষয়টি আমি গতকাল অবগত হয়েছি। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যাতে বাঁধাগ্রস্ত না হয় এজন্য আমি ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, খেলার মাঠ প্রধানত শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও শারীরিক বিকাশের জন্য সংরক্ষিত। মাঠে বাঁশের হাট বা কোন প্রকার স্থায়ী বা অস্থায়ী বাজার বসানো অননুমোদিত বা আইনবিরোধী। খুব শীঘ্রই খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত